পরীক্ষায় অঙ্কে পেয়েছিলেন মাত্র ৫১। তা নিয়ে বাড়িতে অভিভাবকের কাছে অনেক বকুনিও খেয়েছেন। এবার সেই পবনই ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেটের বিশ্বকর্মা ? কী করে সম্ভব? কথায় আছে পরীক্ষার নম্বর কখনও বলতে পারে না কার ভবিষ্যত কতটা সুন্দর। ঠিক যেমন পবন কুমার চন্দনা (Pawan Kumar Chandana). তাঁর কাছে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াটা যেন দুঃস্বপ্ন ছিল। এখন তিনি একজন রকেট বিজ্ঞানী (Rocket Scientist)। অথচ এই পবনই সাধারণ মেধার ছাত্র ছিলেন। অঙ্কে পেয়েছিলেন মাত্র ৫১ (pawan chandana)।
হায়দ্রাবাদে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম পবন কুমার চন্দনা-র। প্রথম থেকেই বিভিন্ন যন্ত্রপাতির প্রতি আকৃষ্ট করত তাঁকে। সেইগুলি নিয়েই ছোটবেলা থেকে খেলতেন। কঠিন সময়েও তাঁর বাবা তাঁকে ক্রমাগত উৎসাহ জুগিয়েছেন। ধীরে ধীরে অঙ্ক ও বিজ্ঞানই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। কৌতূহল আর অধ্যবসায়ের জোরে বদলে যায় তাঁর জীবন (pawan chandana)।
আইআইটি হয়ে ইসরো কীভাবে?
পরীক্ষা দিয়ে প্রথম চেষ্টাতেই ক্র্যাক করেন আইআইটি জেই (IIT JEE)। ভর্তি হন আইআইটি খড়্গপুরে (IIT Kharagpur). যখন সহপাঠীরা আইটি (IT) সেক্টরে মোটা মাইনের চাকরির পিছনে দৌড়চ্ছেন, পবনের চোখ তখন মহাকাশে। ক্যাম্পাস থেকেই সরাসরি সুযোগ পান ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন বা ইসরো (ISRO)-তে। কেরলের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে টানা ৬ বছর কাজ করেন। ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহুবলী রকেট GSLV Mk III-এর তৈরিতেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
এরপরই ২০১৮ সালে আর এক প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী নাগা ভরত ডাকা-র সঙ্গে মিলে হায়দরাবাদে প্রতিষ্ঠা করেন ‘স্কাইরুট অ্যারোস্পেস’। সে সময়ে ভারতে বেসরকারি সংস্থার রকেট তৈরির ধারণাই ছিল না, বিনিয়োগকারীরাও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় পবনের আইআইটি খড়্গপুরের সিনিয়র তথা ফ্লিপকার্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিন্নি বনসল প্রথম ভরসা দেখিয়ে ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেন। এরপর তাঁদের পাশে দাঁড়ায় গ্রিনকো (Greenko)।
২০২০ সালে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা হিসেবে রকেট ইঞ্জিন ‘রমন-১’ পরীক্ষা করে চমক দেয় স্কাইরুট। তারপর ২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর তারা উৎক্ষেপণ করে ভারতের প্রথম বেসরকারি সাব-অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-এস’। আর এবার, পূর্ণাঙ্গ অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ মহাকাশে পাঠিয়ে ইতিহাস গড়ল।









