---Advertisement---

২০ বছরের অপেক্ষার পর রায়! ১২৮ সাক্ষী, CBI তদন্ত— তবুও খালাস সব অভিযুক্ত, পবনরাজে নিম্বলকর হত্যা মামলার রায়ে তোলপাড় মহারাষ্ট্র

June 20, 2026 6:21 PM
Pawanraje Nimbalkar Murder Case
---Advertisement---

মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা পবনরাজে নিম্বলকর হত্যাকাণ্ডে (Pawanraje Nimbalkar Murder Case) প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তাঁরই আত্মীয় ও প্রাক্তন NCP সাংসদ পদ্মসিংহ পাটিল। দুই দশক ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ার শেষে সব অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দিল মুম্বইয়ের বিশেষ সিবিআই আদালত। তবে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাই কোর্টে যাওয়ার ঘোষণা করেছে CBI.

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একসময় ব্যাপক আলোড়ন ফেলা পবনরাজে নিম্বলকর হত্যা মামলায় (Pawanraje Nimbalkar Murder Case) অবশেষে রায় ঘোষণা করল মুম্বইয়ের বিশেষ CBI আদালত। প্রায় ২০ বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া, ১২৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি এবং দীর্ঘ তদন্তের পর শনিবার আদালত মামলার সমস্ত অভিযুক্তকে খালাস করে দিয়েছে।

২০০৬ সালের ৩ জুন, ৪১ বছর বয়সী কংগ্রেস নেতা পবনরাজে নিম্বলকর তাঁর চালক সামাদ কাজিকে নিয়ে মুম্বই থেকে ওসমানাবাদ (বর্তমান ধারাশিব) ফিরছিলেন। সেই সময় নাভি মুম্বইয়ের কালাম্বোলি এলাকায় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই সুপারি কিলার। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় নিম্বলকর ও তাঁর চালকের।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার ঘিরে পরবর্তী দুই দশক ধরে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলেছে।

‘মৃত্যু-হুমকি’-র অভিযোগে FIR, ‘আমাকে খুন করতে চাইছে আকাশ যাদব’— বিস্ফোরক তেজ প্রতাপ

কারা ছিলেন অভিযুক্ত?

(Pawanraje Nimbalkar Murder Case) মামলার প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন নিম্বলকরের খুড়তুতো ভাই এবং মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ারের সৎভাই প্রাক্তন NCP সাংসদ পদ্মসিংহ পাটিল। বর্তমানে তাঁর বয়স ৮৬ বছর।

পাটিল ছাড়াও অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন ব্যবসায়ী সতীশ মান্দাদে, প্রাক্তন BJP কাউন্সিলর ও অবসরপ্রাপ্ত আবগারি আধিকারিক মোহন শুক্লা, পরসমল জৈন, শশীকান্ত কুলকার্নি, BSP কর্মী কৈলাশ যাদব এবং কথিত শুটার দিনেশ তিওয়ারি, পিন্টু সিং ও ছোটে পাণ্ডে।

তদন্তে উঠে এসেছিল, পরসমল জৈনকে ৩০ লক্ষ টাকার সুপারি দেওয়া হয়েছিল নিম্বলকরকে খুনের জন্য। পরে জৈন আদালতের অনুমোদন পেয়ে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা সরকারি সাক্ষীতে পরিণত হন এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন।

কেন CBI তদন্ত শুরু হয়েছিল?

প্রথমদিকে মামলার তদন্ত করছিল নাভি মুম্বই পুলিশ। কিন্তু তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে নিম্বলকরের পরিবার বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়।পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি CBI-এর হাতে তুলে দেয়। ২০০৯ সালে CBI চার্জশিট জমা দিয়ে পদ্মসিংহ পাটিলকে (Pawanraje Nimbalkar Murder Case) হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিহ্নিত করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই এই খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

অ্যাডমিট কার্ড খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! NEET-এ নাগপুরের পরীক্ষার্থীর সেন্টার আবু ধাবিতে, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার

কী ছিল (Pawanraje Nimbalkar Murder Case) খুনের মোটিভ?

CBI এর তদন্ত অনুযায়ী, ওসমানাবাদ জেলার রাজনীতিতে নিম্বলকরের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা পাটিলের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। এছাড়াও তেরনা সুগার ফ্যাক্টরির পরিচালনা নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ ছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। সেই কারণেই ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সুপারি দিয়ে নিম্বলকরকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আসেন পদ্মসিংহ পাটিল। ২০০৯ সালে তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও কয়েক মাস পর তিনি জামিন পান।

কে ছিলেন পবনরাজে নিম্বলকর?

পবনরাজে নিম্বলকর ছিলেন ওসমানাবাদ জেলার অন্যতম জনপ্রিয় কংগ্রেস নেতা। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি পদ্মসিংহ পাটিলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তিনি তেরনা সুগার ফ্যাক্টরি এবং ওসমানাবাদ জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে নিম্বলকরের ছেলে তথা বর্তমান শিবসেনা (UBT) সাংসদ ওমরাজে নিম্বলকর আদালতে জানান, তাঁর বাবা পাটিলের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

IPL -এ নতুন ভূমিকায় যুবরাজ সিং, দিল্লি ক্যাপিটালসে যোগ দেওয়ার জোর জল্পনা

কেন এত দীর্ঘ সময় লেগেছে?

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১১ সালে। এরপর একে একে ১২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন সমাজকর্মী আন্না হাজারেও। মামলার এক পর্যায়ে দাবি করা হয়েছিল, পদ্মসিংহ পাটিল নাকি আন্না হাজারেকেও খুন করার জন্য আলাদা সুপারি দিয়েছিলেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আদালতে সাক্ষ্য দেন হাজারে।

বহু নথি, সাক্ষ্যপ্রমাণ, জেরা, আইনি বিতর্ক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের শুনানির কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। ফলে রায় দিতে প্রায় দুই দশক সময় লেগে যায়।

আদালতের রায় ও CBI এর পরবর্তী পদক্ষেপ

বিশেষ CBI আদালতের বিচারক সত্যনারায়ণ নবান্দার শনিবার মামলার নয়জন অভিযুক্তকে খালাস দেন। যদিও এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় CBI। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তারা যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ আদালতে পেশ করেছিল।

সেই কারণে আদালতের এই রায়কে বম্বে হাই কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে CBI। দুই দশকের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর দেওয়া এই রায় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে হাই কোর্টে CBI এর পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের দিকে।

ISL ২০২৬-২৭ মরশুম শুরু ৪ সেপ্টেম্বর? আগামী সপ্তাহেই হতে পারে লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment