কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে ইডি তল্লাশি। এই তল্লাশি ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (CMRL)-এর দুর্নীতি মামলার সঙ্গে যুক্ত অর্থ পাচারের একটি তদন্তের অংশ। যে মামলায় বিজয়ের কন্যাও অভিযুক্ত হিসেবে জড়িত রয়েছেন। বিজয়নের বাড়ি ছাড়াও আরও ৯টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এই তল্লাশি অভিযান ছিল CMRL এবং বিজয়ের কন্যা টি বীণার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে জড়িত কথিত আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে। CMRL মামলায় ইডি-র তদন্ত বাতিল করার আবেদন কেরালা হাইকোর্ট খারিজ করার ঠিক একদিন পরেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হল। ইডি-র তদন্তকারীরা কোঝিকোড়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক পিএ মুহাম্মদ রিয়াজের বাসভবনেও তল্লাশি চালিয়েছেন। তিনি টি বীণার স্বামী।(CMRL Money Laundering Case)
CMRL সিন্থেটিক রুটাইল এবং শিল্প-রাসায়নিক সামগ্রী উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত। ঘুষ দেওয়া এবং অর্থ পাচারের অভিযোগের জেরে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতিষ্ঠানটি তদন্তকারীদের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। এই বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এমন একটি অভিযোগ। সেটা হল-এক্সালজিক সলিউশনস CMRL-এর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছে, অথচ বিনিময়ে তারা CMRL-কে কোনও ধরনের পরিষেবা দেয়নি। যদিও এই মামলায় বিজয়নকে সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। তবুও এই ঘটনাটি কেরালায় এক বিশাল রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য যে, CMRL-এ ‘কেরালা স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর ১৩.৪ শতাংশ শেয়ার বা মালিকানা ছিল। (CMRL Money Laundering Case)
CMRL মামলাটি আসলে কী?
এই অভিযোগগুলো সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে। সে সময় প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে এক্সালজিক সলিউশনস CMRL-এর কাছ থেকে ১.৭২ কোটি টাকা নিয়েছিল, অথচ এই সময়ের মধ্যে তারা CMRL-কে কোনও পরিষেবা দেয়নি। এই তথ্যগুলো ফাঁস হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার ‘সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস’ (SFIO)-কে বিষয়টি নিয়ে একটি বিস্তারিত তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। SFIO তাদের ১৬০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে (prosecution complaint) টি. বীণা, CMRL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীধরন কার্থা এবং আরও ২৫ জনকে অভিযুক্ত হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। তদন্তকারী সংস্থাটি CMRL, এক্সালজিক সলিউশনস এবং এক্সালজিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘এমপাওয়ার ইন্ডিয়া ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্টস’ সহ বেশ কয়েকটি কোম্পানিকেও এই মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। (CMRL Money Laundering Case)
SFIO-এর তথ্যমতে, টি বীণার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি CMRL-এর কাছ থেকে মোট ২.৭০ কোটি টাকা নিয়েছে। এছাড়া, আলাদাভাবে ২০২৩ সালে ‘ইনকাম ট্যাক্স ইন্টারিম সেটেলমেন্ট বোর্ড’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, CMRL-এর কর্মীদের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ওই কোম্পানিটিকে ১.৭২ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কথিত অবৈধ অর্থ দেওয়ার ঘটনায় টি বীণার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক। বীণার বিরুদ্ধে ‘কোম্পানি আইন, ২০১৩’-এর ৪৪৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে; এই ধারাটি মূলত কর্পোরেট জালিয়াতি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে। এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ছয় মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং কথিত জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অর্থের তিন গুণ পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
তৃণমূলের ৫০ জন বিধায়ক ও ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যেতে তৈরি’, দাবি এই নেতার













1 thought on “CMRL দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নএর বাড়িতে ইডি হানা, তদন্তের কেন্দ্রে কন্যা টি বীণা ও ‘এক্সালজিক’ সংযোগ”