থামল ক্যামেরার শাটার। চিরতরের মতো বন্ধ হয়ে গেল ক্যামেরায় ছবি তোলা। ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বিশ্বখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই (Raghu Rai Death)। রবিবার ভোরে এই সংবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায় থেকে শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে, দলাই লামা ধরা দিয়েছিলেন তাঁর ক্যামেরার লেন্সে। ১৯৭২ সালে পদ্মশ্রী পান। তাঁর পুত্র নীতিন রাই জানিয়েছেন, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিশিষ্ট এই চিত্র সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরে চলছিল চিকিৎসা। অবশেষে কয়েক বছরের লড়াইয়ের সমাপ্তি।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে নীতিন জানিয়েছেন, “দু’বছর আগে আমার বাবা প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। চিকিৎসার পর সুস্থ হন। পরে পাকস্থলিতে ছড়িয়ে পড়লে তখনও ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূল হয়ে যায়। কিন্তু, সম্প্রতি মাথায় ছড়িয়ে পড়ে আর সেই সঙ্গে বয়সজনিত বহু সমস্যাও দেখা দেয়।” সোশাল মিডিয়ায় রঘুর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার বিকেল চারটের সময় দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য।
১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাং-এ জন্ম রঘুর (Raghu Rai Death)। ১৯৬২ সালে তাঁর বড় ভাই চিত্রগ্রাহক এস. পলের কাছে ফটোগ্রাফি শেখা শুরু করেন। পেশাদার জীবন শুরু করেন ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে এবং ১৯৬৫ সালে নয়াদিল্লিতে এক ইংরাজি দৈনিকে চিত্রসাংবাদিক হিসেবে জার্নি শুরু । এই সময়ে তিনি বিভিন্ন জাতীয়স্তরে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনার ছবি তোলেন। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কর্মদক্ষতায় খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে যান রঘু।
রঘু রাইকে ভারতীয় ফটোগ্রাফি ও চিত্রসাংবাদিকতার ‘জনক’ মনে করা হয়। নিজের কর্মজীবনে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারত ও বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেছেন। তাঁর তোলা ছবিগুলি নেহাত ছবি বলা ভুল, বরং সেগুলি যেন ইতিহাসের এক একটি জীবন্ত দলিল। ১৯৭১ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করে।
ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার পর তোলা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত একটি ছবি সাড়া বিশ্বে আলোড়ন ফেলেছিল। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছিল এক নিষ্পাপ শিশুর নিথর মুখ। ছবিটি দুর্ঘটনার দিকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং কর্পোরেটের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিরাট বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। তবে শুধু একটি ছবি নয়, রঘু রাই কাজ করেছেন বিখ্যাত সব ব্যক্তিদের সঙ্গেও।











