ফিরল ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়ের স্মৃতি। তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) তিরুভাল্লুর (Thiruvallur) জেলায় একটি সিফুড প্রসেসিং ইউনিটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অ্যামোনিয়া গ্যাস লিক করে মৃত্যু হলো কমপক্ষে ২ জনের। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি বহু শ্রমিক, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা(Tamil Nadu Gas Leak)।
সূত্রের খবর, রবিবার তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়ারপালায়ামের কাছে কান্নিগাইপেয়ার এলাকায় একটি সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ছড়িয়ে পড়ে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস। সেই সময় কারখানার ভিতরে কাজ করছিলেন বহু শ্রমিক। গ্যাস লিক করতেই, ঝাঁঝালো গন্ধ প্রথমে তাঁরাই পান। তারপরেই শ্রমিকেরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারও মাথা ঘুরতে থাকে। আবার কারও বমিও শুরু হয়। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। অসুস্থ শ্রমিকদের যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার করে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি অসুস্থদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান (Tamil Nadu Gas Leak)।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকর। তিনি বলেন, “তিরুভাল্লুর জেলার পেরিয়ারপালায়ামের কাছে কান্নিগাইপেয়ার গ্রামের একটি চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকের এই দুঃখজনক ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই দুর্ঘটনায় মূল্যবান কিছু প্রাণ হারিয়েছে এবং বহু শ্রমিক জখম হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যে পরিবারগুলি এই দুর্ভাগ্যজনক ট্র্যাজেডিতে তাঁদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর যেন তাঁদের শক্তি ও সাহস দেন। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমস্ত শ্রমিকের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছি।”
অন্যদিকে, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু কীভাবে এই গ্যাস লিক হল? প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, কারখানাটির ‘মেজার ভালভ’ থেকেই গ্যাস নিঃসরণের ঘটনাটি ঘটেছে। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এনডিআরএফ-এর অন্তত ৩০ জন আধিকারিক।










