রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

৪ হাজার গাছ কাটার নিদান, উত্তরাখণ্ডে উন্নয়ন বনাম পরিবেশ রক্ষার লড়াই

uttarakhand tree protest
---Advertisement---

বর্ষা এলেই বুক কাঁপে। তাঁরা ভাবেন এই বুঝি সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। এক প্রকার আতঙ্কেই দিন কাটাতে হয় তাঁদের। মাঝে মধ্যেই পাহাড়ে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া হড়পা বানে ভেসে নিয়ে যায় সবকিছু। সবমিলিয়ে গাছ কাটা ও অপরিকল্পিত নগরায়নকে দায়ি করছেন সাধারণ মানুষ। গাছ কেটে তৈরি হচ্ছে হোমস্টে। দিন কয়েক আগেই উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাজ্যের প্রায় চার হাজারেরও বেশি গাছ কাটা হবে বলে ঘোষণা করেছিল উত্তরাখণ্ড সরকার। তারপরেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নামে রাজ্যের মানুষ। তীব্র গণপ্রতিবাদের মুখে পড়ে উত্তরাখণ্ড সরকার দেরাদুন-ঋষিকেশ মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য গাছ কাটা সাময়িকভাবে স্থগিত করে (uttarakhand tree protest)।

uttarakhand tree protest: কেন গাছ কাটা হচ্ছিল?

উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ-দেরাদুন চার লেন জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজের জন্য চার হাজারের বেশি গাছ কাটার পরিকল্পনা করেছিল সে রাজ্যের সরকার। যাতায়াত সহজ করতে ঋষিকেশ ও ভানিয়াওয়ালা সংযোগকারী রাস্তাটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি এই প্রকল্পটি রূপায়ণের জন্য প্রায় ৪,৩৬৯টি গাছ চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরিবেশকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে গাছ কাটার এই কাজ স্থগিত রাখে উত্তরাখণ্ড সরকার।

কেন তীব্র গণআন্দোলন গড়ে উঠল?

এই বনাঞ্চলটি মূলত ‘শিবালিক এলিফ্যান্ট রিজার্ভ’-এর অংশ। পরিবেশবিদদের মতে, সড়ক চওড়া করার ফলে বন্য হাতির করিডোর সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে হাতির দল লোকালয়ে ঢুকে পড়তে বাধ্য হবে। এতে বহু মানুষের প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে একের পর এক হড়পা বান ও ভয়াবহ ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটেছে। হিমালয়ের বুকে পার্বত্য অঞ্চলে নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে দুর্যোগ আরও বাড়ছে।

কোথায় কোথায় সংগঠিত হয়েছে আন্দোলন?

গাছ কাটার বিরুদ্ধে গত কয়েক দিন ধরেই উত্তরাখণ্ডের ‘সাত মোড়’ এলাকায় পরিবেশকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পড়ুয়ারা লাগাতার বিক্ষোভ শুরু করে। গাছ জড়িয়ে ধরে ‘চিপকো’ আন্দোলনের আদলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমনকি পুলিশি পাহারায় গাছও কাটা হয়। এরপর আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করতেই গাছ কাটা স্থগিত রাখে উত্তরাখণ্ড সরকার। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি আন্দোলনকারীদের দাবির এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

উত্তরাখণ্ডের অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। উন্নত রাস্তাঘাট তৈরি হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। যা পরোক্ষভাবে স্থানীয় হোটেল, গাড়িচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধি করবে। জলি গ্র্যান্ট বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ উন্নত করা এবং আপদকালীন সময়ে দ্রুত উদ্ধারকার্য বা সামরিক যাতায়াতের জন্য রাস্তা চওড়া করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে উত্তরাখণ্ড সরকার। তবে গাছ কাটার পরিবর্তে অন্য জায়গায় এর চেয়ে চারগুণ বেশি গাছ রোপণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় আন্ডারপাস বা বিশেষ কালভার্ট তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেরাদুন ও ঋষিকেশের সংলগ্ন শিবালিক জঙ্গল এবং থানো বনাঞ্চল হাতির একটি অন্যতম প্রধান যাতায়াত করিডোর (Elephant Corridor)। হাজার হাজার প্রাচীন গাছ কেটে ফেললে হাতির মতো বড় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থানের ক্ষয়ক্ষতি হবে এবং মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণের সংঘাত (Human-Wildlife Conflict) আরও তীব্র হবে।


Rima Dutta Ghosh

প্রায় ৮ বছর ধরে সাংবাদিকতার জগতে। শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যাদবপুর ইউনির্ভারসিটি থেকে মাস কম-এ পড়াশোনা করতে করতেই জেলা সাংবাদিকতায় ঢোকা। তারপর থেকেই শুরু চড়াই-উতরাই। সেখান থেকে এবটি ওয়েট পোর্টালে কপি রাইটার হিসাবে কাজ শুরু। তারপর টেলিভিশন জগতে। সেখানে প্রায় ৪ বছর কাজ করা। কপি রাইটার থেকে বুলেটিন প্রডিউসার। কথাটা সহজ হলেও পথ চলাটা ছিল কঠিন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment