ফের ফিরছে করোনাকালের স্মৃতি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কার মাঝে বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজধানী দিল্লিতে (Work From Home ) ‘মেরা ভারত মেরা অবদান’ ক্যাম্পেইন চালুর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এই উদ্যোগের আওতায় সরকারি কর্মীদের জন্য সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
দিল্লির যানজটে পড়ে গাড়িগুলির জ্বালানি খরচ বেশি হয়। সেই খরচ কমাতে দিল্লি সরকার এবং দিল্লি পৌরনিগম তাদের দপ্তরের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনবে। এছাড়া, জ্বালানি সাশ্রয় ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকদের উৎসাহিত করার জন্য দিল্লি সরকার একটি প্রচারভিযান শুরু করারও পরিকল্পনা করছে। এছাড়াও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মীরা সপ্তাহে দুই দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম করবেন। পাশাপাশি অফিসিয়াল যত মিটিং রয়েছে, তার ৫০ শতাংশ মিটিং অনলাইনে হবে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা আগেই জানিয়েছিলেন যে প্রধানমন্ত্রীর আর্জি মতো জ্বালানি বাঁচাতে অফিসের কাজে ন্যূনতম গাড়ি ব্যবহার করা হবে। ক্যাবিনেট মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির সমস্ত বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি, দিল্লি সরকারের কর্মীদেরও যথাসম্ভব কম গাড়ি ব্যবহার করতে বলেছেন। তার বদলে কারপুলিং ও গণপরিবহনে যাতায়াত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, প্রতি সোমবার পালিত হবে ‘সোমবার মেট্রো’। ওই দিন সমস্ত মন্ত্রী, উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং সাধারণ কর্মীরা যাতায়াতের জন্য মেট্রো রেল ব্যবহার করবেন। এছাড়া সাধারণ মানুষের কাছে সপ্তাহে অন্তত একদিন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ বাঁচাতে সমস্ত সরকারি অফিসে এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুতের অপচয় রুখতে বসানো হবে ‘মাস্টার সুইচ’।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি জ্বালানি সাশ্রয়, কার-পুলিং এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আবেদন জানিয়েছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্যগুলি।












