বর্তমানে ব্যস্ত জীবনে আমাদের অনেকেই ঘুম অনেক কমে গিয়েছে। তবে এখনও অনেকেই রাতে টানা ৮ ঘণ্টা ঘুমোন। তবুও সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্লান্ত লাগে, সারাদিন শরীরে শক্তি থাকে না, আবার দুপুরের দিকে মাথাও ঝিমঝিম করতে শুরু করে। যদি আপনার সঙ্গেও এমনটা হয়, তাহলে শুধু ঘুমের সময় নয়, নজর দিতে হবে শরীরের পুষ্টির দিকেও।
পুষ্টিবিদ লভনীত বাত্রা সম্প্রতি জানিয়েছেন, প্রতিদিনের ক্লান্তি, দুপুরের পর ব্রেন ফগ বা মনোযোগ কমে যাওয়া এবং সারাক্ষণ অবসন্ন লাগা- এই সব অনেক সময় শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। এই পুষ্টিগুলি খাবারকে শক্তিতে (ATP) রূপান্তর করতে এবং শরীরের কোষ ও টিস্যুর মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
Health Tips: কোন ৪টি পুষ্টির ঘাটতিতে এমন সমস্যা হতে পারে?
১. বি-ভিটামিন (B-Vitamins)
পুষ্টিবিদের মতে, বি-ভিটামিন শরীরের ‘স্পার্ক প্লাগ’-এর মতো কাজ করে। আমরা যে কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট খাই, তা থেকে শরীরের ব্যবহারযোগ্য শক্তি (ATP) তৈরি করতে এই ভিটামিন অত্যন্ত জরুরি।
বি-ভিটামিনের ভালো উৎস- টক দই, গরুর দুধ, পনির, চিনাবাদাম।
২. প্রোটিন (Protein)
শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে পেশি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে পারে। এর ফলে শরীর দুর্বল লাগে, কাজ করার শক্তি কমে যায় এবং বারবার মিষ্টি বা চিনিযুক্ত খাবার খেতে ইচ্ছে করে।
পুষ্টিবিদের কথায়, পর্যাপ্ত প্রোটিন শরীরকে পেশি ভাঙতে দেয় না এবং দুপুরের দিকে হঠাৎ এনার্জি কমে যাওয়াও রোধ করে।
প্রোটিনের ভালো উৎস- সেদ্ধ স্প্রাউটস, ভাজা ছোলা,ওমুসুর ডাল।
৩. ইলেকট্রোলাইট (Electrolytes)
অনেক সময় ক্লান্তির আসল কারণ হতে পারে শরীরে পানির ঘাটতি। ইলেকট্রোলাইট শরীরের কোষে জল ও বৈদ্যুতিক সংকেতের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পটাশিয়াম ও সোডিয়াম ঠিক মাত্রায় থাকলে ব্রেন ফগ কমে এবং শরীর সতেজ থাকে।
ইলেকট্রোলাইটের ভালো উৎস- ডাবের জল, কলা, লেবুর জল
৪. ম্যাগনেসিয়াম (Magnesium)
ম্যাগনেসিয়াম পেশির সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের স্নায়ুকে শান্ত রাখে। এর ফলে গভীর ও আরামদায়ক ঘুম হয় এবং রাতে শরীরের পেশিগুলির পুনরুদ্ধারও ভালোভাবে হয়।
ম্যাগনেসিয়ামের ভালো উৎস- কুমড়োর বীজ, রাজগিরা, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম।
কাঁচা নাকি গুঁড়ো হলুদ- কোনটিতে স্বাস্থ্যগুণ বেশি? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
প্রতিদিন কী কী খাওয়ার পরামর্শ দিলেন পুষ্টিবিদ?
লভনীত বাত্রার মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কয়েকটি সহজ পরিবর্তন আনলেই শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। (Health Tips)
তিনি পরামর্শ দিয়েছেন—
১. প্রতিদিন ১ বাটি টক দই অথবা ১০০ গ্রাম তাজা পনির খান, যাতে পর্যাপ্ত বি-ভিটামিন পাওয়া যায়।
২. প্রোটিনের জন্য ১ কাপ সেদ্ধ স্প্রাউটস অথবা একটি ছোট বাটি ভাজা ছোলা খেতে পারেন।
৩. শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ওয়ার্কআউটের পরে ১ গ্লাস ডাবের জল অথবা ১টি কলা খাওয়া উপকারী।
৪. ম্যাগনেসিয়ামের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিন ১ টেবিল চামচ কুমড়োর বীজ খেতে পারেন। এছাড়া বাজরার খিচুড়িও ভালো বিকল্প।
তাই এবার থেকে রাতে পর্যাপ্ত ঘুম হলেও যদি নিয়মিত ক্লান্তি, শরীরে শক্তির অভাব বা দুপুরের দিকে মাথা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেবেন না। অনেক ক্ষেত্রেই এর পেছনে থাকে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘাটতি। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার পাশাপাশি দীর্ঘদিন এই সমস্যা চলতে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।












