জিমে যাওয়ার পর প্রোটিন শেক খাওয়া এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে বাজারচলতি প্রোটিন পাউডারের বদলে কি আমাদের দেশীয় খাবার ছাতুও একই কাজ করতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাতু পুষ্টিকর হলেও, এটি সব ক্ষেত্রে প্রোটিন শেকের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। বরং কার জন্য, কী উদ্দেশ্যে এবং কতটা পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে- তার উপরই নির্ভর করছে এর কার্যকারিতা।
Healthy Food: ছাতু কী? কেন এত জনপ্রিয়?
ছাতু মূলত ভাজা ছোলা গুঁড়ো করে তৈরি করা হয়। বহু শতাব্দী ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এটি একটি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ছাতুর শরবত, ছাতুর পরোটা অনেকেরই খুবই প্রিয়। বর্তমানে এটি আবার স্বাস্থ্যসচেতনদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, কারণ এতে থাকে প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান।
১০০ গ্রাম ছাতুর পুষ্টিগুণ কতটা?
১০০ গ্রাম ছোলার ছাতুর মধ্যে থাকে—
প্রায় ২৬ গ্রাম প্রোটিন
প্রায় ৬০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট
প্রায় ১৮ গ্রাম ফাইবার
প্রায় ৭ গ্রাম ফ্যাট
এছাড়া ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ।
মোট ক্যালোরি প্রায় ৪১৩
এই কারণেই ছাতুকে অনেকেই প্রাকৃতিক শক্তিদায়ক খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন।
তাহলে কি এটি প্রোটিন শেকের বিকল্প হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আপনার লক্ষ্য হয় সাধারণ ফিটনেস বজায় রাখা, পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা, তাহলে ছাতু একটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
তবে যদি লক্ষ্য হয় দ্রুত পেশি গঠন, বেশি ওজন নিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম বা ক্রীড়াবিদদের মতো উচ্চমাত্রার প্রশিক্ষণ, তাহলে শুধুমাত্র ছাতু যথেষ্ট নাও হতে পারে। কারণ বাজারে বিক্রি হওয়া প্রোটিনের ঘনত্ব বেশি এবং শরীর তা তুলনামূলক দ্রুত শোষণ করতে পারে। ফলে ব্যায়ামের পরে দ্রুত পেশি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে ওই প্রোটিন অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়।
প্রতিদিন এক গ্লাস ধনে ভেজানো জলেই মিলবে উপকার, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ছাতুর উপকারিতা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ছাতু খেলে মিলতে পারে একাধিক উপকারিতা।
- ছাতু দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
- হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
- কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমাতে পারে।
- রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
- শরীরকে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায় এবং ব্যায়ামের পরে শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে পারে।
- গরমের সময় শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
- ল্যাকটোজ ইন্টলারেন্ট ব্যক্তিদের জন্য এটি প্রোটিন পাউডারের তুলনায় সহজপাচ্য একটি বিকল্প হতে পারে। (Healthy Food)
কারা ছাতু খেতে পারেন?
নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এমন ব্যক্তি, নিরামিষভোজী, প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রোটিন নিতে চান যাঁরা, কম খরচে পুষ্টিকর খাবার খুঁজছেন এমন মানুষেরা সকলেই ছাতু খেতে পারেন।
তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ছাতুর প্রোটিনের পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ কার্বোহাইড্রেটও থাকে। তাই কেবল প্রোটিন পাওয়ার উদ্দেশ্যে বেশি পরিমাণে ছাতু খেলে ক্যালোরির পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়া উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হওয়ায় এতে প্রোটিন পাউডারের মতো সব প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড পর্যাপ্ত মাত্রায় থাকে না। তাই পেশি বৃদ্ধির জন্য শুধু ছাতুর উপর নির্ভর না করে ডিম, দুধ, ডাল, সয়াবিন, পনির বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গেও খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
কীভাবে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার?
ছাতু ঠান্ডা জল, দই বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। স্বাদ বাড়াতে লেবুর রস, ভাজা জিরে গুঁড়ো, কালো নুন কিংবা সামান্য গুড় মেশানো যেতে পারে। ব্যায়ামের পরে ছাতু খাওয়া গেলেও দিনের মোট প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। (Healthy Food)
সব মিলিয়ে, ছাতু নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর, সাশ্রয়ী, প্রাকৃতিক প্রোটিনের উৎস। তবে প্রতিদিন ১০০ গ্রাম ছাতু খেলেই যে এটি সবার জন্য পোস্ট-ওয়ার্কআউট প্রোটিন শেকের সম্পূর্ণ বিকল্প হয়ে যাবে, এমনটা নয়। আপনার শরীরের প্রয়োজন, ব্যায়ামের ধরন এবং প্রতিদিনের মোট প্রোটিনের চাহিদা বিবেচনা করেই খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় ছাতু অন্তর্ভুক্ত করলে তবেই উপকার পাওয়া সম্ভব।












1 thought on “পোস্ট-ওয়ার্কআউট ১০০ গ্রাম ছাতুই করবে প্রোটিন শেকের কাজ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ”