রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

East Bengal FC: প্রশ্নের মুখে ইস্টবেঙ্গল কোচের স্ট্র্যাটেজি, এবারের ISL ও কিন্তু ধীরে ধীরে রং পাল্টাবে

East Bengal FC
---Advertisement---

কুশল চক্রবর্তী
দিল্লিতে ডুরাণ্ড কাপে East Bengal FC হারলে ভারতের সর্বকালের ক্লাব লেভেলের সেরা কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়কেও পড়তে হয়েছে দর্শক রোষে। ২০১৭ সালে ইদানীং কালের ইস্টবেঙ্গলের সেরা কোচ ট্রেভর জেমস মরগ্যান হয়েছেন সদস্য সমর্থকদের ক্ষোভের কারণ। ইস্টবেঙ্গল এবারের ISL-এর অন্যতম সাধারণ মানের দল Kerala Blasters এর সঙ্গে যে ভাবে ড্র করেছে তাতে যে দলের কোচ অস্কার ব্রুজো উপস্থিত দর্শকদের ক্ষোভের মুখে পড়বেন তা বলাই বাহুল্য। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচে ব্রুজোর দল ৯২ মিনিটের গোলে খেলে শুধু মাঠে ২ পয়েন্ট রেখে আসেনি, রেখে এসেছে ইস্টবেঙ্গলের খেলোয়াড় তথা সভ্য সমর্থকদের দলের প্রতি ভরসাও। এত্ত প্রশিক্ষণ আর এত্ত বেছে একটা দল নির্বাচন করার পরেও এই ISL প্রতিযোগিতার অন্যতম শেষ দলের কাছে থেকেও যদি পুরো পয়েন্ট না পাওয়া যায়, তবে আর যাই হোক কোচকে প্রশংসা করা সত্যিই মুশকিল।

ইস্টবেঙ্গল তাদের এই ISL-এর পঞ্চম ম্যাচে চারটি গোল খেয়েছে। লক্ষ করে দেখুন তার প্রত্যেকটিতেই আছে রক্ষণের কিছু প্রাথমিক ভুল। শুধু তাই নয়, বার বার যে ভাবে রক্ষণভাগ বিপক্ষ দলের ফরওয়ার্ডদের হেড আটকাতে ভুল করেছে তাতে বেশ বোঝা গেছে রক্ষণ সংগঠনে বেশ ত্রুটি আছে। এই ম্যাচে দেখুন কী দানিস ফারুক কী ফালাউয়, হেড আটকানোর কোনও চেষ্টাই দেখা যায়নি। ইস্টবেঙ্গল যখন ৯২ মিনিটে সেট পিস থেকে, মানে কর্নার থেকে গোল খেল, তখনও দেখুন দুই স্টপারের মধ্যে কোনও সঠিক জায়গা নেওয়ার প্রয়াসেই নেই। আসলে একজন সেন্টার মিডফিল্ডারকে স্টপার খেলালে এটা হতেই পারে।

খারাপ ফলেই কি ব্রুজোর বিদায়? বৈঠকে East Bengal কর্তারা

কোচের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে এই যে, তিনি যদি নিজে দল গড়েই থাকেন তা হলে কেন তিনি মার্তন্ড রায়নাকে কেন খেলাচ্ছেন না? এই মার্তন্ডই তো গতবারের আইলিগের সেরা স্টপার ছিলেন। অন্য দিকে দেখুন ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এখন পি ভি বিষ্ণু, তাকে কেন খেলানো হলো লেফট ব্যাকে? তাও আবার দলে যখন জয় গুপ্তার আর প্রভাত লাকরার মতো ব্যাক আছে।

ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখে বার বার বোঝা গেছে, যে তাদের কোচ এবার রক্ষণকে একটু উপরে রেখেই খেলাচ্ছেন। উনি তা খেলাতে পারেন, যতক্ষণ দল জিতছে ততক্ষণ তাতে সমালোচিত হবেন না। কিন্তু হারলে তো তার দায় ইস্টবেঙ্গলের কোচকে নিতেই হবে। অন্য দিকে ইস্টবেঙ্গলের সেরা খেলা তৈরি করার মানুষ এই মুহূর্তে মিগুয়েল, এটা কি এখন বিপক্ষ কোচদের জানতে বাকি আছে? তবে তাঁকেও তো নতুনভাবে উপস্থাপনার কথা ব্রুজো সাহেবকে ভাবতে হবে। হিসাবে করে দেখুন ইস্টবেঙ্গল এই কেরালার সঙ্গে খেলায় কটা প্রকৃত সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে? আর যাই বলুন না কেন, সিঙ্গেল স্ট্রাইকার খেলার মতো খেলোয়াড় কিন্তু ইউসেফ এজেজারি নন। তিনি খেটেছেন, কিন্তু একটা ছাড়া প্রকৃত গোলের সুযোগ তেমন পাননি।

এই ম্যাচটা নিয়ে ভারতীয় ফুটবলের সর্বকালের অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক ও পরে একজন কোচ শ্রী অলোক মুখোপাধ্যায়, খুব সুন্দর ভাবে বলেছেন, “কিছু রক্ষণ সংগঠনে পরিবর্তন আনলে এই দল হয়তো ভালো খেলবে। হয়তো কেভিন সিবিলে নেই বলে কিছু অসুবিধা আছে কোচের। কিন্তু তাঁকে তো এই অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। যে ভাবে দুই স্টপারের মধ্যে দিয়ে বিপক্ষের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা গোল করছে তাতে এটা বোঝা যাচ্ছে, তাদের খেলার মধ্যে কিছু প্রাথমিক ভুল আছেন। তাঁরা বল আর প্লেয়ারের মধ্যে তাল মেল রেখে নজর রাখছেন না।” অন্য দিকে ভারতের এককালের এক সেরা মধ্য মাঠের খেলোয়াড় বলেছেন, “ইস্টবেঙ্গল এই খেলায় যে কর্নার থেকে গোলটা খেল, লক্ষ করে দেখুন ছয় গজের মধ্যে থেকে হেড মেরে বিনা বাধায় মহম্মদ আজসাল যখন গোলটা করছে তখন গোলকিপার গোল ছেডে় বেরলো না, আর একজনও স্টপার তাঁকে কোনওরকম বাধা দেওয়ার চেষ্টাই করল না। রিপ্লেতে দেখুন জিকসন কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।”

কোচকে কিন্তু মনে রাখতে হবে এখনও ইস্টবেঙ্গলকে মুম্বই সিটি, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট, ইন্টার কাশী আর বেঙ্গালুরুর মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলতে হবে।


Hindusthan News Point

রাজ্য, দেশ, বিদেশ, খেলা ও বিনোদনের নির্ভরযোগ্য খবর এক প্ল্যাটফর্মে। আমরা তুলে ধরি সত্য, বাস্তব ও মানুষের কথা। Voice of the Nation

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment