---Advertisement---
lifezone nursing home

স্পেনকে আটকে বিশ্বকাপে ইতিহাস, কেপ ভের্দের লড়াইয়ে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব

June 16, 2026 12:34 AM
Spain vs Cabo Verde
---Advertisement---

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনও কখনও শুধু পরিসংখ্যানের খেলা থাকে না। কখনও কখনও সেটি হয়ে ওঠে সাহসের গল্প, বিশ্বাসের গল্প, অসম লড়াইয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার গল্প। (Spain vs Cabo Verde) আটলান্টা স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে ঠিক সেই গল্পটাই লিখল কেপ ভের্দে।

জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি। বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের তালিকায় নাম নেই। বিশ্বকাপে এটাই তাদের প্রথম উপস্থিতি। আর প্রতিপক্ষ? ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। (Spain vs Cabo Verde) তবু ৯৫ মিনিটের যুদ্ধ শেষে স্কোরবোর্ডে জ্বলল এক অবিশ্বাস্য ফলাফল— স্পেন ০-০ কেপ ভের্দে।

(Spain vs Cabo Verde) ড্র শুধু নয়, এটি কেপ ভের্দের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা— তারা বিশ্বকাপে শুধু অংশ নিতে আসেনি, লড়তেও এসেছে।

(Spain vs Cabo Verde) ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ছিল স্পেনের। পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজদের ছোট ছোট পাসে এগোচ্ছিল লা রোহা। কিন্তু যতবার স্পেন আক্রমণে উঠেছে, ততবার সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেপ ভের্দের খেলোয়াড়রা।

১৪ মিনিটে পেদ্রির ডান পায়ের দূরপাল্লার শট সোজা গোলমুখে যাচ্ছিল। কিন্তু গোলরক্ষক ভোজিনহা দুই হাত মুঠো করে সেটি আটকে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় অবিশ্বাস্য রাত।

১৯ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের জোরালো শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। ২০ মিনিটে পাও কুবার্সির প্রচেষ্টা ব্লক করে দেন ডিফেন্ডাররা। স্পেনের আক্রমণ ছিল, কিন্তু ধার ছিল না।

দেড় লাখের দেশকে ৭ গোল দিয়ে ব্রাজিলের স্মৃতি ফেরাল জার্মানি, হেরেও মন জিতল কুরাসাও

অন্যদিকে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠছিল কেপ ভের্দে। (Spain vs Cabo Verde) ৩৫ মিনিটে ডেইলন লিভ্রামেন্তো মাঝমাঠ থেকে দুরন্ত গতিতে ছুটে এসে ৩৫ গজেরও বেশি দূর থেকে শট নেন। বল পোস্টের বাইরে গেলেও স্পেনের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল সেই মুহূর্ত।

৩৯ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। মার্ক কুকুরেল্লার হেড থেকে বল পেয়ে ফেরান তোরেস খুব কাছ থেকে শট নেন। গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও বল গিয়ে আছড়ে পড়ে ক্রসবারে। স্টেডিয়ামে তখন স্প্যানিশ সমর্থকদের হাহাকার। এক মিনিট পর মিকেল ওয়ারজাবালের শক্তিশালী হেডারও দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন ভোজিনহা। কর্নার থেকে ফাবিয়ান রুইজের আরেকটি প্রচেষ্টা চলে যায় অনেক ওপর দিয়ে।

(Spain vs Cabo Verde) প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। কিন্তু সেই স্কোরলাইনের পেছনে ছিল এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান— স্পেন বল দখলে এগিয়ে থাকলেও কেপ ভের্দে মাত্র একটি ফাউল করেছিল প্রথম ৪৫ মিনিটে। শৃঙ্খলিত, সংগঠিত এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছিল আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি।

দ্বিতীয়ার্ধে সবাই ভেবেছিল স্পেন ঝাঁপিয়ে পড়বে। বাস্তবে সেটাই হয়েছিল। কিন্তু শেষ ফল বদলাতে পারেনি। ৪৮ মিনিটে ওয়ারজাবালের হেড বাইরে যায়। ৫১ মিনিটে ফাবিয়ান রুইজের দূরপাল্লার শট বারবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে থাকে। ৫৩ মিনিটে ওয়ারজাবাল ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে ২৫ মিটার দূর থেকে শট নেন, সেটিও বাইরে।

যেন এক অচেনা স্পেন। যারা সাধারণত সুযোগ তৈরি করে গোল করে, তারা এদিন শুধু সুযোগই নষ্ট করেছে। বল পজেশন ভাল থাকলেও সুবিধা করে উঠতে পারছিল না লা ফুয়েন্তের ছেলেরা।

৫৬ মিনিটে পেদ্রির নিখুঁত পাস থেকে ফাবিয়ান রুইজের হেডার আবারও আটকে দেন ভোজিনহা। ৫৮ মিনিটেও একই দৃশ্য। স্পেনের প্রতিটি আক্রমণের সামনে একাই প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেপ ভের্দের অধিনায়কসুলভ গোলরক্ষক।

(Spain vs Cabo Verde) দ্বিতীয়ার্ধে দুই কোচই একাধিক পরিবর্তন আনেন। ৬১ মিনিটে কেপ ভের্দে একসঙ্গে তিনটি বদল করে। চোট পাওয়া জোভানে কাবরালের পরিবর্তে মাঠে নামেন উইলি সেমেদো। ডেইলন লিভ্রামেন্তোর জায়গায় আসেন নুনো দা কস্তা এবং লারোস দুয়ার্তের পরিবর্তে নামেন ডেরয় দুয়ার্তে। ৭৬ মিনিটে সিডনি কাবরালের বদলি হিসেবে মাঠে আসেন জোয়াও পাওলো। ৭৯ মিনিটে কেপ ভের্দের শেষ পরিবর্তন হিসেবে জামিরো মন্টেইরোর জায়গায় নামেন তেলমো আরকানজো।

অন্যদিকে স্পেন প্রথম পরিবর্তন আনে ৭১ মিনিটে, যখন ফাবিয়ান রুইজের পরিবর্তে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শেষ অস্ত্র হিসেবে নামান লামিনে ইয়ামালকে। গাভির পরিবর্তে মাঠে নামেন ইউরোপের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকা। কিন্তু ইয়ামালের উপস্থিতিও স্পেনের আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার এনে দিতে পারেনি।

৭৩ মিনিটে মিকেল মেরিনোর শট, ৮৩ মিনিটে কুকুরেল্লার হেডার— দুটিই ভোজিনহার হাতে নিরাপদে জমা পড়ে। ৮১ মিনিটে ফেরান তোরেসের পরিবর্তে দানি ওলমোকে নামান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ৮৫ মিনিটে রদ্রির দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে স্পেনের শেষ পরিবর্তন হিসেবে রদ্রির জায়গায় মাঠে আসেন নিকো উইলিয়ামস।

ভিনিসিয়াসের জবাব, বোনোর দুরন্ত রক্ষণ! হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ ড্র ব্রাজিলের

এরপর আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত।

৯০+১ মিনিটে যেন ইতিহাস লিখে ফেলতে যাচ্ছিল কেপ ভের্দে। তেলমো আরকানজোর নিখুঁত ক্রস থেকে ডিনেই বোর্জেস মাত্র পাঁচ মিটার দূর থেকে হেড করেন। পুরো স্টেডিয়াম গোল দেখেছিল। কিন্তু স্পেন গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভ তাদের স্বপ্নের জয় আটকে দেয়।

ইনজুরি টাইমে ইয়ামালের শট ব্লক হয়, মিকেল ওয়ারজাবালের হেড বাইরে যায়। (Spain vs Cabo Verde) শেষ বাঁশি বাজতেই কাবো ভের্দের খেলোয়াড়দের উল্লাস যেন জয়েরই সমান।

বিশ্বকাপে ব্লু শার্কস এর প্রথম ম্যাচ। প্রতিপক্ষ স্পেন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশাল ব্যবধান। তবুও কেপ ভের্দে দেখিয়ে দিল ফুটবলে শুধু তারকারা ম্যাচ জেতায় না, হৃদয় দিয়েও ম্যাচ বাঁচানো যায়।

এই ড্র স্পেনের জন্য সতর্কবার্তা। লামিনে ইয়ামালের অনুপস্থিতি প্রথমার্ধে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছে। আক্রমণে সৃজনশীলতার অভাব ছিল, ফিনিশিং ছিল হতাশাজনক। ৯৫ মিনিটে অসংখ্য শট নিয়েও গোলের দেখা পেল না তারা।

আর কেপ ভের্দে? তারা প্রমাণ করল, মানচিত্রে ছোট হলেই স্বপ্ন ছোট হয় না। পাঁচ লাখ মানুষের দেশটি বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে ফুটবল বিশ্বকে জানিয়ে দিল— তাদের গল্প এখনও শেষ হয়নি, বরং শুরু হয়েছে মাত্র।

খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার, বিশ্বকাপে ফের নজর কাড়ল জাপানের সমর্থকেরা


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment