ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনও কখনও এমন গল্প তৈরি হয়, যা শুধু খেলার ফলাফলের গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কেপ ভের্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহার (Vozinha) গল্পও ঠিক তেমনই। ৪০ বছর বয়সে জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমে তিনি যে কীর্তি গড়লেন, তা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দেয় কেপ ভের্দে। সেই ঐতিহাসিক ফলের সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন (Vozinha) ভোজিনহা। পুরো ম্যাচে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেন। বল দখল, সুযোগ তৈরি এবং ২৭টি শট নেওয়ার পরও স্পেন গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল মাঠে নামলেও ভোজিনহার দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভাঙতে পারেননি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের পোস্টের কাছে মাথা নিচু করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভোজিনহা। সতীর্থরা তাঁকে জড়িয়ে ধরলেও আবেগ সামলাতে পারছিলেন না তিনি। (Vozinha) পরে জানান, সেই মুহূর্তে তাঁর মনে পড়ছিল প্রয়াত দাদু-দিদার কথা, যাঁরা ছোটবেলা থেকে তাঁকে মানুষ করেছিলেন। একইসঙ্গে মনে পড়ছিল মায়ের কথাও।
🇨🇻😢 Cape Verde goalkeeper Vozinha: "I cried after the game because I grew up with my grandparents when I was a kid, and they could not be there. They passed away a few years ago. My mum could not be here either for a VISA issue, and the money we had to pay for it. We did not… pic.twitter.com/vutf4cfvrH
— NOT CZ 🔶 BNB (@czbinancepd) June 16, 2026
(Vozinha) ভোজিনহার আক্ষেপ, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচটি স্টেডিয়ামে বসে দেখতে পারেননি তাঁর মা। আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মতো জোগাড় করতে না পারায় তিনি বিশ্বকাপ দেখতে যেতে পারেননি। এই বিষয়টি স্মরণ করেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন কেপ ভের্দের এই গোলরক্ষক।
কেপ ভের্দে সেই দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, যাদের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা পেতে বড় অঙ্কের জামানত অর্থাৎ ১৫০০০ মার্কিন ডলার দিতে হয়। যদিও গত মাসে বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জন্য এই শর্ত শিথিল করা হয়, অনেক সমর্থকের জন্য তখন তা অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
(Vozinha) ভোজিনহার ফুটবলযাত্রাও সংগ্রামের গল্পে ভরা। ২৫ বছর বয়সে অ্যাঙ্গোলার ক্লাব প্রোগ্রেসোর হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর মলডোভা, সাইপ্রাস, স্লোভাকিয়া ও পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব জিডি চাভেসের সদস্য। ২০১২ সালে জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর একাধিকবার অবসরের কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
ম্যাচের পর ভোজিনহা বলেন, “সারা জীবন আমি এই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করেছি। অনেক প্রজন্ম এই স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু পূরণ করতে পারেনি। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”
(Vozinha) ভোজিনহার প্রকৃত নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াজ। মজার বিষয় হলো, ‘ভোজিনহা’ শব্দটির অর্থ পর্তুগিজ ভাষায় ‘দিদিমা’ বা ‘ঠাকুমা’। ছোটবেলায় মাঠে হারলে অন্য ছেলেরা তাঁকে দাদু-দিদার কাছে নালিশ করতে যায় বলে খোঁচা দিত, সেখান থেকেই এই ডাকনামের জন্ম। শৈশবের সেই মজার ডাকনামই পরে তাঁর পরিচিতি হয়ে ওঠে।
তাঁর সতীর্থ স্টিভেন মোরেইরা মজা করে বলেন, দলের সবাই বয়স নিয়ে তাঁকে খোঁচা দেয়। কিন্তু মাঠে তিনি প্রমাণ করেছেন বয়স শুধু একটি সংখ্যা। অন্যদিকে ডিফেন্ডার পিকো লোপেসের কথায়, “ভোজিনহা শুধু একজন গোলরক্ষক নন, তিনি আমাদের নেতা।”
অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের পর বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন (Vozinha) ভোজিনহা। ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ২৪ লক্ষেরও বেশি হয়ে যায়। বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভের্দের ঐতিহাসিক সূচনা আর ভোজিনহার চোখের জল যেন মনে করিয়ে দিল—ফুটবল শুধু খেলা নয়, এটি স্বপ্ন, সংগ্রাম আর আবেগের এক অনন্য গল্প।
স্পেনকে আটকে বিশ্বকাপে ইতিহাস, কেপ ভের্দের লড়াইয়ে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব











1 thought on “অর্থের জন্য সামনে থেকে ম্যাচ দেখতে পারেননি মা, স্পেনকে রুখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভোজিনহা”