সত্যকে প্রতিষ্ঠা ও অধর্মের বিনাশ করতে যুগে যুগে বিভিন্ন অবতারে আর্বিভূত হয়েছেন বিষ্ণু। তাঁর দশ অবতারের মধ্যে পঞ্চম অবতার বামন। এটি ত্রেতাযুগের প্রথম অবতার। কেন এই রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন? বিশদে জেনে নিন (Lord Vishnu)।
Lord Vishnu: দৈত্যরাজ বলি
হিন্দু পুরাণে দৈত্যরাজ বলি (বা মহাবলী) ছিলেন একজন পরাক্রমশালী, দাতা ও ন্যায়পরায়ণ অসুর রাজা। দাতা হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। তিনি দানবীর ও প্রজাপালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কেউ কখনও তাঁর কাছে গেলে, খালি হাতে ফিরে আসে না। নিজের তপস্যা দিয়ে বিষ্ণুকে তুষ্ট করে স্বর্গ অধিকার করেন বলি। এতেই তাঁর অহংকার বেড়ে যায় (Lord Vishnu)।
দেবতাদের আর্তি
দৈত্যরাজ তাঁর বলপ্রভাবে স্বর্গরাজ্য দখল করে নিয়েছিলেন। অসুরদের অত্যাচারে দেবতারা স্বর্গচ্যুত ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। তখন দেবরাজ ইন্দ্র-সহ অন্য দেবতারা বিষ্ণুর শরণাপন্ন হন। দেবমাতৃকা অদিতি (ইন্দ্রের মাতা) দেবতাদের এই অবস্থা দেখে বিচলিত হন। তিনি তাঁর পুত্রদের রাজ্য ও অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ভগবান বিষ্ণুর কঠোর আরাধনা করেন। তখন মহর্ষি কাশ্যপ ও তাঁর স্ত্রী অদিতির সন্তান হিসেবে জন্ম নেন অবতার বিষ্ণু। এই প্রথম মানব সন্তান হিসেবে জন্ম হল বিষ্ণুর। ধীরে ধীরে সেই শিশু বড় হতে লাগল, কিন্তু তাঁর উচ্চতা রয়ে গেল কয়েক ফুট। তাই তাঁকে সবাই বামন দেব বলত। বাবার মতো বামন দেবও ভিক্ষা করে দিন কাটাতেন।
বলির সঙ্গে সাক্ষাৎ বামন দেবের
প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে বামন দেব নর্মদা নদীর তীরে যজ্ঞরত মহান দাতা দৈত্যরাজ বলির দরবারে উপস্থিত হন। তিনি বলির কাছে ভিক্ষা হিসেবে মাত্র তিন পা (পদ) পরিমাণ জমি চান। ওই রাজসভায় তখন উপস্থিত ছিলেন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য। বামন রূপে বিষ্ণুকে তিনি চিনতে পারেন তিনি। বলিকে সাবধান করেন। কিন্তু বলি জানান, যেই আসুক, তাঁর পক্ষে কাউকে খালি হাতে ফেরানো সম্ভব নয়। দাতা বলি নিজ প্রতিশ্রুতিতে অটল থেকে এই দান গ্রহণ করতে বলেন।
বলিরাজার পদস্খলন
দান সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বামন দেব বিশাল আকার ধারণ করেন। এক পা দিয়ে মর্ত্য এবং অন্য পা দিয়ে তিনি স্বর্গ অধিকার করে নেন। এবার তৃতীয়বার নিজের পা তুলে সেই পা কোথায় রাখবেন তা বলি রাজার কাছ থেকে জানতে চান বামন। বলিরাজার আর কিছু রইল না। বামন অবতারের পদতলে তখন নিজের মাথা এগিয়ে দেন। পা দিয়ে মাথা চেপে বলিকে পাতালে ঢুকিয়ে দেন বামন দেব ওরফে বিষ্ণু অবতার।
বিষ্ণুর আশীর্বাদ প্রাপ্ত বলিরাজা
বলিরাজা বিষ্ণুকে চিনতে পেরেছিলেন। তবুও দান থেকে তিনি সরে আসেননি। সেই কারণে খুশি হয়ে বলিকে আশীর্বাদ করেন বিষ্ণু। বলিকে পাতাল লোকের অধিপতি করে দেন তিনি। বিষ্ণু বলেন যে বছরে একবার বলি নিজের সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মর্ত্যে উঠে আসতে পারবেন। বলির এই মর্ত্যে আসাটাই কেরালায় ওনাম হিসেবে পালিত হয়। সেই পুরাণ মতেই, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশী তিথিতে বলিকে দমন করেছিলেন বিষ্ণু। তাই এই দিনটি বামন দ্বাদশী হিসেবে পালিত হয়।









