ই-পেপার রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

একসময় ছিল বিপ্লবীদের আনাগোনা, শতবর্ষে সেই মন্দিরেই কালীপুজো, জানুন আনন্দময়ী কালীবাড়ির ইতিহাস

Published on: November 6, 2026
---Advertisement---

একসময় এই মন্দিরেই ছিল বিপ্লবীদের আনাগোনা। শতবর্ষের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি এবং দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে এক বিশেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে শিলিগুড়ির এই আনন্দময়ী কালীবাড়ি। ১০০ বছরে পা দিচ্ছে এই মন্দিরের কালীপুজো। শতবর্ষের এই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিপ্লবী চারণকবি মুকুন্দ দাসের নাম। তাঁর উদ্যোগেই নাকি সুদূর কাশী থেকে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি। শুধু ধর্মীয় স্থান হিসেবেই নয়, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় বিপ্লবীদের আস্তানা হিসেবেও পরিচিত ছিল এই কালীবাড়ি (siliguri Anandamoyee kalibari)।

siliguri Anandamoyee kalibari: ইতিহাসের পাতায় আনন্দময়ী কালীবাড়ি

মন্দিরের ইতিহাস ঘাঁটলে উঠে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়কার নানা স্মৃতি ভেসে ওঠে স্থানীয়দের মধ্যে। কথিত আছে, বিপ্লবী মুকুন্দ দাস এই মন্দিরে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। সেই অর্থের একাংশ মন্দির নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়। তাঁর উদ্যোগেই কাশী থেকে নিয়ে আসা হয় কষ্টিপাথরের মা কালীর মূর্তি। সেই সময় শিলিগুড়ি টাউন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জনবসতি ছিল অনেকটাই কম। স্টেশনে নেমে বিপ্লবীরা এই মন্দিরে আশ্রয় নিতেন। মাটির প্রতিমাকে কেন্দ্র করে এখানে লাঠিখেলা, শরীরচর্চা এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চলত। ফলে ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে এই মন্দিরের নাম (siliguri Anandamoyee kalibari)।

মন্দিরের পরিকাঠামোয় পরিবর্তন

শতাব্দীর পথচলায় মন্দিরের পরিকাঠামোগত বেশকিছু পরিবর্তন হয়েছে। প্রায় ১৪ বছর আগে পুরনো মন্দির ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। তবে ঐতিহ্য বজায় রাখতে পুরনো বেদির মাটি সংরক্ষণ করা হয় এবং সেই একই বেদিতে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা হয় মা কালীর বিগ্রহ। কালের নিয়মে মন্দিরের বন্ধ হয়েছে বলিপ্রথা। প্রায় ২০-২৫ বছর আগে এই প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে আখ, শসা, চালকুমড়ো-সহ বিভিন্ন সামগ্রী নিবেদন করেই মায়ের পুজো সম্পন্ন হয়।

আনন্দময়ী কালীবাড়ির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস জানান, এবছর মন্দির প্রতিষ্ঠা এবং কালীপুজো—দুইয়েরই শতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। সেই উপলক্ষে বছরজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৮ নভেম্বর রাত ১০টা থেকে শুরু হবে মায়ের পুজো। রাত ১টা ৩০ মিনিটে ভোগ নিবেদন ও ভোগ আরতি অনুষ্ঠিত হবে। এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে পুষ্পাঞ্জলি, শান্তিজল প্রদান এবং হোমযজ্ঞ। শতবর্ষের এই বিশেষ পুজোকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে নিরাপত্তা, সব দিকেই বাড়তি নজর রাখছে মন্দির কর্তৃপক্ষ।


Follow Hindustan News Point Channel on WhatsApp

Rima Dutta Ghosh

প্রায় ৮ বছর ধরে সাংবাদিকতার জগতে। শুরুটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যাদবপুর ইউনির্ভারসিটি থেকে মাস কম-এ পড়াশোনা করতে করতেই জেলা সাংবাদিকতায় ঢোকা। তারপর থেকেই শুরু চড়াই-উতরাই। সেখান থেকে এবটি ওয়েট পোর্টালে কপি রাইটার হিসাবে কাজ শুরু। তারপর টেলিভিশন জগতে। সেখানে প্রায় ৪ বছর কাজ করা। কপি রাইটার থেকে বুলেটিন প্রডিউসার। কথাটা সহজ হলেও পথ চলাটা ছিল কঠিন।

Join WhatsApp Channel

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now