শিক্ষিকা এবং ছাত্রীদের হেনস্থার মতো গুরুতর অভিযোগের জেরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বেসরকারি স্কুলের পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হলো। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনারপুর উত্তরের বিধায়ক দেবাশিস ধর। খুব শীঘ্রই নতুন পরিচালন সমিতি গঠন করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অভিযোগ, ওই স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি সমীরণ রায় এক শিক্ষিকার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। ঘটনায় ওই শিক্ষিকা নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত সমীরণ রায় বর্তমানে পলাতক বলে জানা গিয়েছে। (Allegations Against School)
বৃহস্পতিবার সকালে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ওই স্কুলে পৌঁছন বিধায়ক দেবাশিস ধর। সঙ্গে ছিলেন নরেন্দ্রপুর থানার আইসি-সহ পুলিশের অন্যান্য কর্তারা। সেখানে স্কুলের পরিচালন সমিতির উপস্থিত সদস্য ও শিক্ষিকাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা।
দেবাশিস ধর জানান, কয়েকদিন আগে ওই স্কুলের তরফে কয়েকজন শিক্ষিকা তাঁর কাছে স্কুল সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ নিয়ে আসেন। অভিযোগে উঠে আসে, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলের ছাত্রীদের উপর নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। একই সঙ্গে শিক্ষিকাদের সঙ্গেও অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা পরিচালন সমিতির সভাপতি সমীরণ রায় বর্তমানে পলাতক। ফোনেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে। (Allegations Against School)
ফের অশান্ত মণিপুর, সশস্ত্র হামলায় কাংপোকপিতে নিহত ৩, আতঙ্কে জঙ্গলে পালালেন বাসিন্দারা
বিধায়ক জানান, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আপাতত বর্তমান পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমেই স্কুল পরিচালনা করা হবে, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকে।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ের দিকে নজর রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের। (Allegations Against School)
দেবাশিস ধর আরও জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নরেন্দ্রপুর থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজরদারি রাখা হবে। মহিলাদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিই অনুসরণ করা হবে বলেও তিনি জানান।










1 thought on “শিক্ষিকা হেনস্থার অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হলো স্কুল পরিচালন সমিতি, এখনও পলাতক সভাপতি”