আগামিকাল, ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। গোটা বাংলায় এখন ভোটের গরম হাওয়া। আর ঠিক নির্বাচনের প্রাক্কালে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Arrest Warrent Against Srijato) বিরুদ্ধে জারি হলো গ্রেফতারি পরোয়ানা। পুরনো একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোটবঙ্গের আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা।
নির্বাচন কমিশনের পরামর্শেই এই পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যেই শ্রীজাতকে গ্রেফতার করতে হবে। হিন্দুত্ব নিয়ে একটি পুরনো কবিতা লেখাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও হিন্দু পরিষদের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই এই কড়া নির্দেশ নিয়েছে আদালত।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শ্রীজাতকে গ্রেফতারের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। কমিশনের যুক্তি, ভোটের সময় কবির বয়ান বা উপস্থিতি থেকে প্ররোচনা ছড়াতে পারে এবং তাতে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ধরণের ‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবেই পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে কবি শ্রীজাত নিজে এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে চাননি পাশাপাশি তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও কোনও পোস্ট করেননি। ২০১৭ সালের লেখা ত্রিশূলের মাথায় কনডম কবিতার জন্য শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় সেই সময় অভিযোগ দায়ের হয়। আইটি act সহ বেশ কিছু ধারায়।
নির্বাচনের প্রাক্কালে একজন বিশিষ্ট কবির বিরুদ্ধে এই আইনি তৎপরতা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে (Arrest Warrent Against Srijato) বিতর্ক ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। শ্রীজাতর একটি বিতর্কিত কবিতার প্রেক্ষিতে বেশ কয়েক বছর আগে মামলা দায়ের হয়েছিল। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের (ECI) গাইডলাইন অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা বা পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি নির্দেশ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ ‘সময়ের অপেক্ষা’ মাত্র।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতর তুঙ্গে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদার দাবি করেছেন, “বিজেপি বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উপর আঘাত হানতে চাইছে। তাদের প্ররোচনায় পা দিয়েই কমিশন শ্রীজাতর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছে।” পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি-ও। বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার বলেন, “এই নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আদালত। এখানে বিজেপি আসবে কোথা থেকে? তৃণমূল হার নিশ্চিত জেনে মানুষকে ভুল পথে চালনা করছে।”
শ্রীজাতর বিরুদ্ধে এমন নির্দেশে স্তম্ভিত বাংলার সংস্কৃতি জগৎ। বর্ষীয়ান সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। একজন কবিকে এভাবে গ্রেফতার করে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না। এটা অত্যন্ত অন্যায়।’










