সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি বিজেপিকে নিশানা করে লেখেন, “শাসকই হয়ে উঠল হত্যাকারী—লজ্জা তোমাদের, বিজেপি।”
শনিবার বিকেলে ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় কামালগাছি এলাকায় তাঁকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। প্রথমে গাড়িতে করেই গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করলেও প্রবল বিক্ষোভের মুখে তাঁর গাড়ি আটকে যায়। (Attack on Abhishek Banerjee)
এরপর গাড়ি থেকে নেমে মোটরবাইকে চড়ে নিহত কর্মীর বাড়িতে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু সেখানেও বিক্ষোভকারীদের বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে বাইক ছেড়ে হেঁটেই এগোতে বাধ্য হন অভিষেক। অভিযোগ, সেই সময় একদল উত্তেজিত ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে ধাক্কাধাক্কি, মারধর এবং ডিম ও জুতো নিক্ষেপ করে। এমনকি তাঁর পরনের সাদা শার্টের বোতামও ছিঁড়ে যায়।
তবে সমস্ত বাধা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে তাঁকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়। সেই সময়ও উত্তেজিত জনতার একটি অংশ তাঁর পিছনে স্লোগান দিতে থাকে।
এই ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করলেও বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “এই ঘটনায় বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। এটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “আজ বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে বলেই তৃণমূলের নেতারা নিরাপদে রয়েছেন। অন্য কোনও পরিস্থিতি হলে তাঁদের পক্ষে এভাবে জনসমক্ষে কথা বলা সম্ভব হত না।” (Attack on Abhishek Banerjee)
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শমীকের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “পুলিশ কেন যথেষ্ট উপস্থিত ছিল না, তার জবাব রাজ্য সরকারই দিতে পারবে।”
সোনারপুরে অভিষেককে ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম-জুতো ছোড়া থেকে উঠল চোর’ স্লোগান, ধস্তাধস্তিতে ছিঁড়ল জামাও
এদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে অতীতের একাধিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার প্রসঙ্গও তোলেন শমীক। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর অতীতে হামলার চেষ্টা হয়েছিল এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদেরও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো একজন সাংসদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হল কীভাবে? কেন এতক্ষণ ধরে এই তাণ্ডব চলতে দেওয়া হল?” তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সোনারপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি দাবি করছে এটি জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। ফলে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। (Attack on Abhishek Banerjee)









