২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরকদমে চলছে ভোট প্রচার। হাতে আর খুব বেশি সময় না থাকায় প্রতিটি দলই মাঠে নেমে জনসংযোগ বাড়াতে ব্যস্ত। এই আবহেই দমদমে তৃণমূলের কর্মীসভায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক, যা ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে অসন্তোষের কারণ হয়েছে (Bratya Basu)।
সম্প্রতি একটি ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা যায়, দমদমের কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্রাত্য বসু দলের ভিতরে গোষ্ঠীবাজির প্রসঙ্গ তুলেছেন। তিনি বলেন, কর্মীরা ছত্রভঙ্গ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এবং দল একাধিক গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভোটে তিনি কোনও গোষ্ঠীবাজি বরদাস্ত করবেন না। এমনকি ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে কাকে পুর প্রতিনিধি করা যেতে পারে, তা দলনেত্রীকে চিঠি লিখে জানাবেন বলেও মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই দলের ভেতরে ক্ষোভ ছড়ায়।
শিশুদের হাতে পতাকা দিয়ে প্রচার BJP-র, শুরু নিন্দা
এই বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ খুলে ব্রাত্য বসু জানান, এটি দক্ষিণ দমদমের একটি ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মীসভা ছিল, যেখানে কোনও কাউন্সিলর নেই। সেই কারণে ওয়ার্ডটি কিছুটা বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। তিনি দাবি করেন, কর্মীদের একত্রিত করতেই এই বৈঠক করা হয়েছিল এবং সেখানে যা বলেছেন, তা দলের স্বার্থেই বলেছেন।
এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার অভিযোগ তোলেন এবং ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
এর পাল্টা জবাবে ব্রাত্য বসু কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের অন্যান্য জায়গায় নারী নির্যাতন বা আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নিয়ে কেন নীরব কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি বাঙালিদের অপমান করছে এবং ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চাইছে, যেখানে তৃণমূল মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছে।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন বাড়ছে, তেমনই দলের অন্দরের এই বিতর্কও নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে তৃণমূল শিবিরে।









