রঙের উৎসবের মাঝে ছেলেধরা আতঙ্ক পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার জাড়া গ্রামে। এক অপরিচিত ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা। আর তা থেকেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ‘ছেলেধরা’ গুজব! তবে এক কিশোর জানায়, তাকে জোর করে ওই অচেনা ব্যক্তিটি মোটরসাইকেলে চাপিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময় গ্রামবাসীদের চোখে পড়ায় মোটর সাইকেল-সহ ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন গ্রামের মানুষজন। কোনও কিছু না বুঝে, সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই ওই ব্যক্তির ওপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতির রূপ নেয় ।Chandrokona Incident
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় চন্দ্রকোনা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু জনরোষ এতটাই তীব্র ছিল যে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখতে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পুলিশ নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, আটক ব্যক্তির নাম সিরাজুল আলি। ওই ব্যক্তিকে রামজীবনপুর ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে আটক করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে হুগলির গোঘাটের বাসিন্দা। তবে তার কথায় যথেষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। Chandrokona Incident
গুজবে কান না দেওয়ার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্যও বার বার অনুরোধ করা হয়্ছে। কোনও ব্যক্তিকে সন্দেহজনক মনে হলে মারধর না করে সরাসরি পুলিশের হাতে তুলে দিতে বলা হচ্ছে। স্রেফ গুজবের জেরে এই অশান্তি আর কতদিন ? প্রশ্ন তুলছে সচেতন সমাজ।









