আগেও ভিড় সামলেছেন। তবে এখন কেন এমন বিপর্যয় ঘটল? আগেও থিমের পুজো হতো। এখনও তাই। তবে এই রকম পরিস্থিতি আগে কখনও তৈরি হয়নি। অতীতেও এই পুজোয় বিপুল ভিড় সামলানোর নজির রয়েছে। তাহলে এবছর কেন এমটা হলো? প্রশ্ন তুলেছেন ওই পুজোর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় (chorbagan durga puja)।
chorbagan durga puja: কেন এই বিপর্যয়? প্রশ্ন জয়ন্তর
গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চোরবাগান সর্বজনীন পুজোর উদ্যোক্তা ছিলেন জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে পালা বদলের পর পুজোর কমিটিও বদলে যায় (chorbagan durga puja)। ঘটনার সময়ে তখন তিনি পুরীতে। সেখান থেকে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। তাতে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “উৎসবে না হোক, এই দুর্যোগে যদি থাকতে পারতাম।” তিনি আরও বলেন, “চোরবাগানে কোনও দিন যে এমন ঘটতে পারে, দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। এত নিরীহ মানুষের প্রাণহানির ঘটনা মেনে নিতে পারছি না।”
জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এমন পরিস্থিতি ২০২২ ও ২০২৩ সালেও তৈরি হয়েছিল। সেই সময় তিনি নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে মণ্ডপের আলো নিভিয়ে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। সেই সময় পুলিশ তাঁকে জানায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পত্নি রুজিরা নারুলা আসছেন। তখন তিনি বলেন, বাড়তি পুলিশি বাহিনী মোতায়েন না করা পর্যন্ত তিনি মণ্ডপের গেট খুলতে রাজি হননি। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পৌঁছতে মণ্ডপের গেট খুলে দেওয়া হয়।
জয়ন্তর অভিযোগ, রাজ্যে পালা বদলের পরই তাঁকে এই কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। জয়ন্তবাবু বলেন, তিনি কমিটি থেকে সরলেও চোরবাগানের জগন্নাথ মন্দির নিয়েও তাঁর উপরে চাপ তৈরি হয়েছিল। যদিও কে বা কারা তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা তিনি বলেননি।
এ বার পুজোর কমিটি থেকে জয়ন্তকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, কমিটি ছাড়ার পাশাপাশি চোরবাগানের জগন্নাথ মন্দির নিয়েও তাঁর উপরে চাপ তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত জগন্নাথের মূর্তি নিজের বাড়িতে নিয়ে রাখতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও কে বা কারা চাপ দিয়েছিল, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কারও নাম করেননি জয়ন্ত।
তিনি আরও বলেন, “ওই মাঠে একটি জগন্নাথ প্রতিষ্ঠা করি। সেখানে আমরা বসতাম। তাপর আমার কাছে প্রশাসনের কাছ থেকে পর পর চারটে চিঠি আসে এবং আমাকে বলা হয় ঘরটা ভেঙে ফেলতে। ওখানে আমরা খুঁটি পুজো করি। সেখানে একটি আমি ম্যুরাল এঁকেছিলাম, যে মা দুর্গাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পুজো করছেন। এই অভিযোগে আমাকে চিঠি পাঠানো হয়। আমাকে ক্লাব ভেঙে ফেলতে বলা হয়। আর এটাও বলা হয়েছিল, আমি যদি না ভাঙি, তাহলে একটা মোটা অঙ্কের টাকা আমাকে ফাইন হিসাবে দিতে হবে। আমরা যখন খুঁটি পুজো করি, তখন লকেট চট্টোপাধ্যায়, কৌস্তভ বাগচি সকলে উপস্থিত ছিলেন। তাপর আমাকে বলা হয় পুজোতে না থাকতে। তখন আমি পুজো থেকে সরে আসি।”
উল্লেখ্য, প্রথমে জয়ন্তর কমিটির করা খুঁটি পুজোর পর ফের নতুন কমিটি পুজো করেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথমে পুজোর খুঁটি তুলে ফেলে নতুন করে পুজো করা হয়েছিল।








