উৎসবের ছবি এক নিমেষে বদলে গেল উৎ-শবে। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হলো ১৯ জনের। আহত বহু। আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। একাধিক চিকিৎসকদের অভিমত, বেশিরভাগ জনেরই ভিড়ের চাপে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে (chorbagan stampede)। এখন প্রশ্ন হলো এই দুর্ঘটনার দায় কার? এখনও পুলিশের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল? প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয়রা কী জানাচ্ছেন?
chorbagan stampede: কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল?
সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৩০ মিনিট। প্রবল জনপ্লাবন এগোতে থাকে চোরবাগানের পুজো প্যান্ডেলের দিকে। মেট্রো স্টেশনেও দর্শনার্থীদের ভিড়। দর্শনার্থীদের লাইন সেন্ট্রাল এভিনিউ ধরে মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত। সন্ধে ৭টা নাগাদ হঠাৎ প্রচন্ড জোরে বৃষ্টি নামে। এরপরেই শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি। মণ্ডপে ঢোকার জন্য ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। মাত্রারিক্ত ভিড়ের চাপ বেড়ে যায় পুজো মণ্ডপ চত্বরে। সন্ধে ৭টা ১৫ মিনিট নাগাদ তুমুল ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। সেই ধাক্কাধাক্কিতেই ভেঙে পড়ে মণ্ডপের একাংশ। মণ্ডপ থেকে নিচে নামার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। সন্ধে ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ এলিভেটেড করিডর থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চোরবাগানের মণ্ডপে ঢোকার পরেই রয়েছে বৃত্তাকার একটি ‘এলিভেটেড করিডোর’। সেই পথ ধরে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে আসতে হয় দর্শনার্থীদের। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, এই করিডোরেই দুর্ঘটনা ঘটেছে (chorbagan stampede)।
চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পুজো কমিটির বিরুদ্ধে
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে, পুজো কমিটির বিরুদ্ধে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ। চোরবাগানের দুর্ঘটনার কয়েক মুহূর্ত আগে কমিটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে মাইকে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। ওই অ্যানাউন্সমেন্টের কিছু পরেই ঘটে দুর্ঘটনা। কমিটির তরফে মাইকিং করে বলা হয়, ‘প্যান্ডেল ভেঙে পড়তে পারে, বেরিয়ে যান’। এমনই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল চোরবাগানে। জানা গেছে, বৃষ্টির ফলে মণ্ডপে যারা ঢুকেছিল তারা আটকে গেছিলেন। এদিকে সেই সময়ই বাইরে থেকে ভিড়ের একাংশ মণ্ডপে প্রবেশ করে। ফলত পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় ওই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।






