চোরবাগান সর্বজনীনের বিপর্যয়ের ঘটনায় মৃত ১৯। গ্রেফতার হয়েছেন ৭ জন। ধৃতদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুন ও অনিচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। BNS-র ১০৫ ও BNS-র ১১০ নম্বর ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ১ জন শিশু ও ১২ জন মহিলা। আহত হয়েছেন ২৫ জন। চোরবাগানের বিপর্যয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময়ে বৃষ্টি নামায় প্যান্ডেলের এক্সিট গেট দিয়ে প্রবেশ করে বহুজন। এমনটাই দাবি পুলিশের। অন্যদিকে সামনের গলি থেকে ঢুকে যায় একাধিক মানুষ। মণ্ডপের ভিতরেও অনেক দর্শনার্থী ছিলেন (kolkata chorbagan durgapuja 2026)।
kolkata chorbagan durgapuja 2026: জারি ১৬৩ ধারা
এই বিপর্যয়ের পর পদক্ষেপ নিলো কলকাতা পুলিশ। চোরবাগান লাগোয়া এলাকায় নবমী পর্যন্ত জমায়েত নিষিদ্ধ করল কলকাতা পুলিশ। রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত চোরবাগান সংলগ্ন বউবাজার থানা এলাকার কিছু অংশে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই এলাকায় ৫-এর অধিক কোনও ব্যক্তি জমায়েত হতে পারবেন না এই এলাকায়। রবিবার সকালেই এই নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ (kolkata chorbagan durgapuja 2026)।
কলকাতা পুলিশের নির্দেশিকায় কী রয়েছে?
কলকাতার পুলিশ কমিশনারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে, চোরবাগান সংলগ্ন বউবাজার থানা এলাকার কিছু অংশে ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর আওত্তায় পড়বে, কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ, কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে সিআর অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ইডেন হাসপাতাল রোডের সিআর অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত অংশে জমায়েত করা যাবে না। যদিও পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে চোরবাগান সংক্রান্ত কোনও বিষয়ের উল্লেখ নেই।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত প্রায় ২০ জন। মৃতদের পরিবার পিছু ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার। শনিবার দুর্ঘটনার পরে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ঈশ্বর এই ক্ষমতা দেয়নি যে মৃতদের ফিরিয়ে দিতে পারব। তবে তাঁদের পরিবারগুলোর জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একজনকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে। আহতরা যে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে চান, সেখানেই করাতে পারবেন। সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। আহতদের পাঁচ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার জন্য সরাসরি পুজো কমিটিকে দায়ি করেছেন। পাশাপাশি ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ প্রশাসনও ব্যর্থ হয়েছে, সে কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফুটেজে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা হবে। কাউকে ছাড়া হবে না।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছিল। ভিড়ের মাত্রা এত বেশি ছিল যে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সেই সময়ে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। মণ্ডপে প্রবেশের জন্য হুড়োহুড়ির জেরে ভিড়ের চাপ বাড়ে। এই হুড়োহুড়িতে পড়ে যান কয়েকজন। পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনায় প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তদন্তে SIT গঠন
এই দুর্ঘটনার পর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনার পিছনে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে SIT-এর তদন্তকারীরা। দুর্ঘটটার আগে মণ্ডপে ভিড় কেমন ছিল? কেন অতিরিক্ত ভিড় দেখেও নিয়ন্ত্রণ করা হলো না? দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরনোর পথ, নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং আয়োজকদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।









