মনে পড়ে সেই দেশপ্রিয় পার্কের ৮৮ ফুট দুর্গা? যে দুর্গা প্রতিমা দেখতে পদপিষ্ট হয়েছিলেন, ১১ জন। তবে আহত হলেও সেবার মৃত্যু এড়ানো গিয়েছিল। প্রায় ১০ বছর আগের ঘটনা। গতকাল চোরবাগানে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ই সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিলো। ২০১৫ সালে সেইবার এই দুর্গা ঘিরেই মাস ছয়েক আগে থেকেই উৎসাহ উন্মাদনার পারদ চড়তে থাকে। সেইবার মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয়েছিল প্রতিমা দেখার হিড়িক (deshapriya park)। মহালয়ার পরের দিনই ভিড়ের চাপে বহু মানুষ পদপিষ্ট হন। তবে সেইবার পরিস্থিতি কীভাবে সামলেছিলো পুলিশ?
deshapriya park: পরিস্থিতি কীভাবে সামলে ছিলো পুলিশ?
মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ তড়িঘড়ি প্রেস কনফারেন্স ডেকে দেশপ্রিয় পার্কের পুজোটি সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দেন। সাধারণ মানুষের প্রবেশে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী ও কালীঘাট চত্বরের ওপর চাপ কমাতে পুলিশ কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে কালীঘাট মেট্রো স্টেশনের গেট দফায় দফায় বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে নতুন করে জমায়েত আর না হয়। পরিস্থিতি এমন ছিল যে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার পর কলকাতার তৎকালীন পুলিশ কমিশনারসহ পদস্থ পুলিশ কর্তাদের মেট্রোরেলে কালীঘাট স্টেশনে নেমে হেঁটে দেশপ্রিয় পার্কে যেতে হয়। আবার ভিড় সামাল দিতে কালীঘাট মেট্রোর গেট দফায় দফায় বন্ধ রাখতে হয়েছিল পুলিশকে।
নতুন করে যাতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এই প্রতিমা দেখতে না আসেন, তার জন্য পুজো প্রাঙ্গণের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় এবং শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওই প্রতিমার বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। উচ্চ আদালতের নিয়ম লঙ্ঘন করা এবং ভিড় সামলাতে ব্যর্থ হওয়ায়, পুলিশ পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে আইপিসির ১৮৮ ধারায় এফআইআর দায়ের করে (deshapriya park)।
ঝুঁকি নেয়নি পুলিশ প্রশাসন
তবে আর ঝুঁকি নেয়নি পুলিশ প্রশাসন। তারপর থেকে বিভিন্ন পুজো যেমন, সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারে ২০২২ সালে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’ এবং দিল্লির লালকেল্লার আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখতে এতটাই মানুষের ঢল নেমেছিল যে, ভিড় অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ায় কলকাতা পুলিশকে মণ্ডপের অন্যতম মূল আকর্ষণ লেজার শো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয়।
অন্যদিকে, ২০২২-এ কল্যাণীর আইটিআই মোড় লুমিনাস ক্লাবে বুর্জ খলিফা-খ্যাত প্যান্ডেল দেখতে এতটাই উপচে পড়া ভিড় হয়েছিল যে চরম বিশৃঙ্খলা ও হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপরেই বড় দুর্ঘটনা এড়াতে অষ্টমীর রাতে পুলিশ-প্রশাসন স্থায়ীভাবে মণ্ডপটি বন্ধ করে দেয়।






