বালি ও কয়লা পাচার মামলায় ফের বড়সড় অভিযানে নামল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ED। মঙ্গলবার ভোর থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলাজুড়ে—দুর্গাপুর, আসানসোল, রানিগঞ্জ, জামুরিয়া, পাণ্ডবেশ্বরসহ একাধিক এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি কলকাতা ও দিল্লির বেশ কয়েকটি ঠিকানাতেও অভিযান চলছে বলে সূত্রের খবর। বালি ও কয়লা পাচারের কালো টাকা, হাওয়ালা লেনদেন এবং প্রোটেকশন মানি সংক্রান্ত তথ্য খুঁজতেই এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ কলকাতা থেকে তিনটি গাড়িতে করে আধিকারিকদের একটি দল জামুরিয়ায় পৌঁছয়। সেখানে বাজার সংলগ্ন পাঞ্জাবি মোড় এলাকায় ব্যবসায়ী রমেশ বনসলের বাড়ি। তাঁর দুই ছেলে সুমিত বনসল ও অমিত বনসল থাকেন। বনসাল হার্ডওয়্যার ও একটি গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় সংবাদমাধ্যমের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে সুমিত বনসালের বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপে বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্ত ও তাঁর ভাই অমিত দত্তের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। প্রবীর দত্ত কে কে মিনারেলস সংস্থার মালিক। এছাড়া পানাগড়, কাঁকসা, অন্ডাল, পাণ্ডবেশ্বর ও জামুড়িয়ার একাধিক প্রভাবশালী বালি ও কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়িতেও তল্লাশি চলছে। পাণ্ডবেশ্বরে কয়লা ব্যবসায়ী শেখ মইজুলের বাড়িতেও ইডির হানা হয়েছে।
অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক, রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিকের বাড়িতেও তল্লাশি। বুদবুদ থানার নবনিযুক্ত ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের দুর্গাপুরের অম্বুজা নগরীর বাড়িতে সকাল থেকেই ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, আগে বারাবনি থানায় কর্মরত থাকাকালীন তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। থানার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই অভিযানে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, অজয় ও দামোদর নদ থেকে বালি তুলে জাল চালানের মাধ্যমে একাধিকবার পাচার করা হতো। একই চালান ব্যবহার করে বারবার বালি সরবরাহ, অবৈধ ঘাট থেকে উত্তোলন এবং কয়লা পাচারের অভিযোগ ঘিরেই এই বিস্তৃত অভিযান। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ নাম সামনে আসতে পারে।









