নির্বাচনের মুখে আবার রাজ্যে সক্রিয় হলো ইডি। এবার কলকাতার তৃণমূল ঘনিষ্ঠ প্রোমোটার হিসেবে পরিচিত ‘সোনা পাপ্পু’র বাড়িতে হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নাম করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। শুধু বাড়িই নয়, তাঁর একটি কোম্পানিতেও তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি।
স্থানীয়দের দাবি, দক্ষিণ কলকাতায় কসবা, ঢাকুরিয়া ও রামলালবাজার এলাকায় ‘সোনা পাপ্পু’ ত্রাস হিসেবেই পরিচিত। কলকাতা পুরসভার ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে কাজ করেন তিনি এমন অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আরও দাবি, শাসকদলের প্রথম সারির নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ওঠাবসা থাকায় এলাকায় পাপ্পুর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। এমনকি খুনের মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। (ED Raid)
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, পুরভোট হোক বা অন্য নির্বাচন বিরোধী এজেন্টদের বুথে পৌঁছতে বাধা দেওয়ার কাজেও হাত থাকে পাপ্পুর। ৬৭ ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ কলকাতা পুরসভায় জমা পড়েছিল। খবর, এই সবকটি নির্মাণের পিছনেও তাঁর হাত রয়েছে। তবে শাসকদলের আশীর্বাদী হাত মাথায় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।
Uttarpradesh Viral Video : নরক হয়ে উঠেছিল বৈবাহিক জীবন! মুক্তি পেয়েই ৯ কিলোমিটার দণ্ডি কাটলেন যুবক
কসবা থানার অন্তর্গত সুইনহো লেনের ‘জাহাজ বাড়ি’ এলাকায় বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’র বাড়ি। শুরুতে তিনি বাবার পিকনিক গার্ডেনের সোনার দোকানে কাজ করতেন। পরে তৃণমূল সরকারের আমলে বাবার ব্যবসা ছেড়ে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাপুকুর এলাকায় কয়েকজনকে নিয়ে সিন্ডিকেটের ব্যবসা শুরু করেন। সেই সময় থেকেই তৎকালীন তৃণমূল ব্লক সভাপতি বিজনলাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে জানা যায়। (ED Raid)
বর্তমানে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’ দক্ষিণ কলকাতার জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে ইডির এই তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।










