আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে এবার বিধানসভায় কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের মুখ থেকে আর কোনও বিতর্কিত মন্তব্য যেন না শোনা যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তার পরই নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন হুমায়ূন কবীর (Humayun Kabir)।
হুমায়ূন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, তৃণমূলের জাহাঙ্গির, শওকত বা শাহজাহানের সঙ্গে তাঁর কোনও তুলনাই হয় না। তিনি ৪৩ বছর ধরে রাজনীতি করছেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোনও মামলাতেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। তিনি জানান, এক সময় তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ডও করা হয়েছিল। তখন তিনি চেয়েছিলেন, রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটুক।
এরপর তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ৪ মে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত যাঁরা তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-কর্মী ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপির পতাকা হাতে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে তৃণমূলের ৯ জন বিধায়কের মধ্যে ৮ জন বিজেপির ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছেন।
নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে হুমায়ূন (Humayun Kabir) বলেন, তিনি বিজেপিকে দু’টি জায়গায় পরাজিত করেই বিধায়ক হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, যাঁদের এক সময় গুণ্ডা বলা হত, তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলা হলেও মুর্শিদাবাদে সেই নীতি কার্যকর হচ্ছে না।
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি একজন রাজনৈতিক নেতা, তাই তিনি তাঁর বক্তব্য রাখতেই পারেন। আমিও, আমার এবং আমার ছেলেকে নিয়ে কথা বলব।”
হুমায়ূন আরও বলেন, যদি বিজেপি প্রশাসনকে কব্জা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো রাস্তায় নেমে রাজনীতি করতে চায়, তাহলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে জোরজবরদস্তি না হলে রেজিনগরে বিজেপিকে হারিয়ে তাঁরা ভালো ফল করবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।
গুণ্ডামির দিন শেষ! রাজ্যে কড়া গুণ্ডা দমন আইন; ভাঙচুর করলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, আদায় ক্ষতিপূরণ
তিনি দাবি করেন, তিনি কখনও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তাঁর সমস্ত আক্রমণ ছিল বিজেপিকে লক্ষ্য করেই। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর জন্য যদি আমাকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়, তাহলে আমি ভেবে দেখব। প্রয়োজন হলে ক্ষমাও চাইব।”
এদিন হুমায়ূন কবীর (Humayun Kabir) বলেন, “আমাকে যদি কেউ ঢিল ছোড়ে, আমি কি রসগোল্লা ছুড়ব? আমি অ্যান্টিসিপেটরি বেল নেব কেন? আমি এই সরকারের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলিনি। আমি শুধু সেইসব নবাগত বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে বলেছি, যারা আগে তৃণমূলের গুণ্ডা ছিল।”









