আষাঢ় পূর্ণিমা তিথিতে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব। ভক্তি, আচার ও ঐতিহ্যের আবহে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হল স্নানযাত্রা। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই মন্দিরে উপচে পড়ে ভক্তদের ভিড়। প্রথা অনুযায়ী, ১০৮ টি পবিত্র কলসের জল দিয়ে দেবতাদের মহাস্নান করানো হয়। ১০৮টি তীর্থস্থানের পবিত্র জলের সঙ্গে গঙ্গাজল, তুলসী পাতা, কাঁচা দুধ, আতর, চন্দন ও কর্পূর মিশিয়ে এই বিশেষ জল প্রস্তুত করা হয়।
পুরোহিতরা মুখ ঢেকে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে স্নানপর্ব সম্পন্ন করেন। পরে জগন্নাথ ও বলরামকে গজবেশে এবং সুভদ্রাকে পদ্মবেশে সাজানো হয়। মন্দিরের পুরোহিত এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য রাধারমণ দাস জানান, স্নানযাত্রার আয়োজনে কোনও খামতি রাখা হয়নি। নিরাপত্তায় ছিল কড়া পুলিশি নজরদারি। (Jagannath Snanyatra)
শুধু দিঘাই নয়, এদিন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও একই উৎসাহে পালিত হয়েছে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। হুগলির মাহেশে ৬৩০ তম রথ এবং স্নানযাত্রা উৎসব উপলক্ষে পহুন্ডি যাত্রার পর স্নানবেদীতে এনে ২৮ ঘড়া গঙ্গাজল, দেড় মণ দুধ এবং ১০৮টি কলসের বিশেষ দ্রব্য দিয়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মহাঅভিষেক সম্পন্ন হয়।
মায়াপুরের ইসকনের রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরেও দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে গঙ্গাজল, দুধ, দই, মধু, ঘি, চন্দন, নারকেলের জল ও সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে মহাস্নান করানো হয়। দিনভর হরিনাম সংকীর্তন, গীতা পাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। (Jagannath Snanyatra)
নদিয়ার মাজদিয়ার শম্ভু মৌলিক ধামেও নগর পরিক্রমার মাধ্যমে ১০৮ জন পুরোহিত পবিত্র জল এনে দেবতাদের স্নান করান। স্নানযাত্রা উপলক্ষে কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ এবং ভক্তদের আহারের ব্যবস্থাও করা হয়।
গুণ্ডামির দিন শেষ! রাজ্যে কড়া গুণ্ডা দমন আইন; ভাঙচুর করলেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, আদায় ক্ষতিপূরণ
অন্যদিকে মালদহের ইসকনের উদ্যোগে পাঁচ কুইন্টাল দুধ, ৫০ কেজি ঘি, এক কুইন্টাল মধু, ১০০ লিটার গঙ্গাজল-সহ নানা উপকরণ দিয়ে মহাঅভিষেক সম্পন্ন হয়। পরে জগন্নাথদেবকে ৫৬ ভোগ নিবেদন করা হয় এবং হাজার হাজার ভক্তের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। (Jagannath Snanyatra)
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর ভগবান জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে ‘অনসর’ পর্বে বিশ্রামে যান। এই সময় সাধারণ ভক্তদের জন্য দর্শন বন্ধ থাকে। এরপর নবযৌবন দর্শনের মাধ্যমে আবার ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হন তিনি। স্নানযাত্রার মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত রথযাত্রার সূচনা।









