২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক নাটকীয় মোড় দেখেছে বঙ্গবাসী। মমতার গড়ে শেষ পর্যন্ত গেরুয়া ঝড় উঠেছে। বাংলা জন্যের জন্য বঙ্গের বিজেপি প্রার্থীদেরও অভিনন্দন জানিয়েছেন মোদী, অমিত শাহেরা। কারণ তাঁরাই তো এই বিজয়রথের সারথি। এ সারথিদের তালিকাতেই এ ব্যতিক্রমী চরিত্র আউসগ্রামের জয়ী প্রার্থী কলিতা মাঝি।
কে এই কলিতা মাঝি? (Kalita Majhi)
৩৭ বছর বয়সি কলিতা মাঝি (Kalita Majhi) পেশায় ছিলেন গৃহ পরিচারিকা। বহু বছর ধরে গৃহকর্মীর কাজ করে নিজের সংসার চালাতেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে দিন গুজরান করেছেন। বাসন মাজা, ঘর পরিষ্কার এই সবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। ২৫০০ টাকায় চলত সংসার। কিন্তু সেই সাধারণ জীবন থেকেই ধীরে ধীরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তৃণমূল স্তরে কাজ করতে করতেই জনসংযোগ করতেন মানুষের সঙ্গে।
২০২১ সালে বিজেপি তাঁকে আউসগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল। তবে সেবার আশানুরূপ ফল করতে পারেননি। কিন্তু ফের এবারের নির্বাচনেও তাঁকেই ওই কেন্দ্রের প্রার্থী করে পদ্ম শিবির। এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনাও তৈরি হয়। কিন্তু ভোটের ফল বেরোতেই মুখ বন্ধ বিরোধীদের। এবার নিজে জিতে দলকে এই আসনটি উপহার দিয়েছেন কলিতা মাঝি।
West Bengal Election Result: রাজ্যে বিক্ষিপ্ত অশান্তি, সোনারপুরে অটো ইউনিউয়ন দখল নিল বিজেপি
উল্লেখ্য, কলিতা মোট ১,০৭,৬৯২টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২,৫৩৫ ভোটে হারান তিনি। এই ব্যবধানই প্রমাণ করে, সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা বেড়েছে।
এই ফল শুধু একটি আসনের জয় নয়, বরং গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেয়। এবারের নির্বাচনে বিজেপির ‘গেরুয়া ঝড়’ অনেক জায়গাতেই দেখা গিয়েছে, এবং আউসগ্রাম তার অন্যতম উদাহরণ। বহুদিন ধরে যে আসন ঘাসফুলের দলের দখলে ছিল, সেটাই এবার দখল করল বিজেপি।
কলিতা (Kalita Majhi) নির্বাচনে দাঁড়ানোর আগে পর্যন্ত তিনি যে জীবন কাটিয়েছেন, তা আজও অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর এই জয় প্রমাণ করে দেয়—রাজনীতিতে বড় নাম থাকলেই সাফল্য আসে না, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলেই অনেক কিছুই সম্ভব।









