পিতৃপক্ষের অবসান, সূচনা দেবীপক্ষের। মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনী পাঠের আবহে রাজ্যের বিভিন্ন ঘাটে দেখা গেল পুণ্যার্থীদের ঢল। (Tarpan) দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুরের আদি গঙ্গার ঘাট থেকে কলকাতার বাবুঘাট, জাজেস ঘাট, হাওড়া সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের বিভিন্ন ঘাট—সর্বত্রই পূর্বপুরুষদের স্মরণ করে তর্পণে শামিল হলেন অসংখ্য মানুষ। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর ছিল প্রশাসন।
Table of Contents
রাজপুরের আদি গঙ্গায় পুণ্যার্থীদের ঢল

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুরের আদি গঙ্গার ঘাটে ভোর থেকেই ভিড় জমাতে শুরু করেন পুণ্যার্থীরা। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে জল নিবেদন করে পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে (Tarpan) তর্পণ করেন তাঁরা। এক পুণ্যার্থী জানান, তিনি বাবা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেছেন। প্রসেনজিৎ মণ্ডলের কাছে এ বছরই প্রথম তর্পণ। তাঁর কথায়, ভারতীয় রীতি মেনে পিতৃপক্ষের অবসানে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে জল নিবেদন করা হয়।
বরুণ মণ্ডলও প্রথমবার তর্পণ করতে এসেছেন। তাঁর বাবা-কাকারা আগে এই রীতি পালন করতেন। তাঁরা আর বেঁচে না থাকায় এবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সোনারপুরের মালিরবাগানের বাসিন্দা নমিতা রায় গত তিন বছর ধরে তর্পণ করছেন। ঘাটে উপস্থিত এক ব্যক্তির দাবি, এ বারের ভিড় সনাতনী ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আবেগের প্রতিফলন। আগামী দিনেও এই সমাগম বজায় থাকুক, এমনই প্রত্যাশা তাঁর।
হাওড়ার ঘাটেও তর্পণ, নিরাপত্তায় পুলিশ

হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর, তেলকল, শিবপুর ও বাঁধাঘাট-সহ গঙ্গার একাধিক ঘাটে সকাল থেকেই পুণ্যার্থীদের ভিড় দেখা যায়। কুম্ভেশ্বরী ঘাটে রূপনারায়ণ নদীর তীরেও ভোর চারটে থেকে চলে (Tarpan) তর্পণ। আয়োজকদের দাবি, এ বছর এই আয়োজন ১৪ বছরে পা দিল। সেখানে সিভিক ভলান্টিয়ার, পুলিশ ও মহিলা পুলিশ মোতায়েন ছিলেন। এক পুণ্যার্থী জানান, গত বছরগুলির মতো এ বারও তিনি কুম্ভঘাটে তর্পণ করতে এসেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো।
পুজোর আগে কি নিম্নচাপের ভ্রুকুটি? বৃষ্টিতে মাটি হবে আনন্দ? কী বলছে পূর্বাভাস?
জলপথে নজরদারি, পুণ্যার্থীদের পাশে স্বেচ্ছাসেবকরা

বাবুঘাট থেকে জাজেস ঘাট এবং হাওড়ার বিভিন্ন ঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সিসিটিভি ক্যামেরা, বোট ও লঞ্চের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়। স্পিডবোট নিয়ে উদ্ধারকারী দলও টহল দেয়। ঘাটের রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাজপুরের ঘাটে স্বেচ্ছাসেবকেরা (Tarpan) তর্পণ শেষে পুণ্যার্থীদের জল ও বাতাসা বিতরণের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের বক্তব্য, এই পরিষেবার মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁদের কাছে পুণ্যের কাজ।
পিতৃপুরুষের স্মরণে প্রাচীন রীতি
(Tarpan) ‘তর্পণ’ শব্দের অর্থ সন্তুষ্ট করা। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জল ও তিল নিবেদনের মাধ্যমে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করে এই প্রাচীন রীতি বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তর্পণ ঘিরে ঘাটে ঘাটে ভিড়ের পাশাপাশি চারদিকে এখন দুর্গাপুজোর আগমনী আবহ।
‘বাংলায় বিজেপিকে রুখতে পারেন একমাত্র মমতা’, রেজিনগরে ভোট কারচুপির অভিযোগে সরব কুণাল










1 thought on “মহালয়ায় তর্পণে বিভিন্ন ঘাটে জনজোয়ার, রাজপুর থেকে হাওড়া—নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি”
Comments are closed.