বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তৃণমূলকে ভাঙার চেষ্টার অভিযোগ তুলে ফের একবার ফেসবুক লাইভে সরব হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন করার আহ্বানও জানালেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর গলায় শোনা গেল দলের ‘গদ্দার’দের কথাও।
এদিন লাইভ এসেই ফের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, ভবানীপুর এ ১৩ হাজার ভোটে জিতেছিলেন, সেই সময় তাঁকে কাউন্টিং সেন্টার থেকে বার করে দেওয়া হয়েছিল। ফলতাতেও ১৮০০ র মধ্যে প্রায় ১৭০০ ব্যালট তৃণমূল পেয়েছিল বলে দাবি মমতার।এদিন বিজেপির বিধানসভা নির্বাচনের জয়কে ‘সো কল্ড জেতা’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি রাজ্য সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা ভয় পাচ্ছেন মানুষকে ভরসা করতে পারছেন না। তৃণমূলকে ভাঙতে ইডি, সিবিআই এর ভয় দেখিয়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ‘রক্ষকই এখন ভক্ষক হয়ে উঠেছে।’ (Mamata Banerjee Live Today)
এক মাসে শিল্প, ব্যবসা, বাজারদর সব জায়গাতেই সমস্যা দেখা দিয়েছে বলেও দাবি করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া নিয়েও সরব হন তিনি।
এদিন সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর উপর হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, অভিষেককে যেভাবে মারা হয়েছিল শুধু মাথায় হেলমেট না থাকলে যেভাবে পাথর ছোঁড়া হচ্ছিল তাতে ‘স্পট ডেড’ হয়ে যেতে পারত। তিনি আরও বলেন, ‘যারা সেদিন অভিষেককে বাঁচাতে গিয়েছিল তাদেরকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। মহিলাদেরও ছাড়েননি। স্থানীয় তেমন কেউই সেদিন হামলার ঘটনায় ছিল না, কয়েকজন ছাড়া। একদিন আগে থেকে বহিরাগতদের এনে খাবারের প্যাকেট দিয়ে রাখা হয়েছিল। তাঁদেরকে দিয়েই এই কাজ করানো হয়েছে বলে দাবি মমতার। এমনকি হাসপাতালে অভিষেকের চিকিৎসা করতেও দেননি, এ কোন তুঘলকি কান্ড চলছে?’ প্রশ্ন মমতার।
তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘কিছু বেনোজল ছিল, চলে গিয়েছে। আমরা বেঁচে গিয়েছি।’ যারা এতদিন ক্ষমতা উপভোগ করেছেন। এখন পার্টি হেরে গেছে বলে সরে যাচ্ছেন, নতুন দল ক্ষমতায় এসেছে বলে সেখানে চলে যাচ্ছে, তাদের তৃণমূল চায়না। ‘দলকে নতুন করে তৈরি করব’ বললেন মমতা। তৃণমূল নেতাদের দল নয় কর্মীদের দল, নেতারা ভয় পায় কর্মীরা পায় না। (Mamata Banerjee Live Today)
এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বহিষ্কারের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, যারা রোজ গিয়ে বিজেপির লোকেদের সঙ্গে দেখা করছেন এবং মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন তাদেরকে দলে রাখার কী দরকার? যাঁরা দলের চিহ্নে ভোট পেয়ে এমপি হয়েছিলেন তাঁরাই আজ বিজেপির কাছে গিয়ে নানা অভিযোগ জানাচ্ছে।
মমতার আরও অভিযোগ, তাঁর দলের কর্মী সমর্থকদের মারা হচ্ছে, পুলিশ সেটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে দেখছে। অসহায় হকারদের দিনের পর দিন উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে কেবল এই উচ্ছেদ কর্মসূচি চালাচ্ছে বিজেপি সরকার। বেআইনিভাবে কাজ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে এইসব হকার, দোকানদারদের কথা একবারও না ভেবে নির্দ্বিধায় উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে।
তৃণমূল বিধায়কদের সই-কাণ্ডে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রীর, তৃণমূল ২ বিধায়ককে বহিষ্কার
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের দলীয় কর্মী বা নেতৃত্বকে কোথাও মিটিং মিছিল করতে দিচ্ছে না। ‘কালকের মিটিং আজকে গিয়ে বলছে সেখানে করা যাবে না। গণতন্ত্রে এখন ভিক্ষা চেয়ে মিটিং মিছিল করতে হচ্ছে। হকারদের উচ্ছেদ করেছেন তার প্রতিবাদ করার পারমিশন চাইতে হচ্ছে।’ (Mamata Banerjee Live Today)
একই সঙ্গে মমতা জানান এভাবে তাঁদের আটকানো যাবে না। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে রাণি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নায় বসছেন তৃণমূল নেত্রী। তবে পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা জানিয়ে দেন, ‘ধর্না হবে। পুলিশ যেখানে আটকাবে, বসে পড়ব। গ্রেফতার করলে করুন।’












