মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বাংলাতেও। ‘প্রিয়জন কবে ফিরবে’—এই প্রশ্নের উত্তরে অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে বহু পরিবার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আকাশসীমা বন্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওযায় বিদেশে থাকা অনেক ভারতীয় নাগরিক এখন নিরাপদে দেশে ফিরতে পারছেন না। উদ্বেগে রয়েছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পরিবার, বসিরহাটের গাজী পরিবার-সহ আরও অনেকে। (Middle East War Impact)
কলকাতা:
ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী, মেয়ে ও নাতনি সৌদি আরবের মদিনায় গিয়েছেন হজ করতে। সেখানেই আটকে তাঁরা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিমান পরিষেবা বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফিরহাদ কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম সমাজ মাধ্যমে ভিডিও দিয়ে নিজেই জানিয়েছেন, আপাতত তারা নিরাপদে থাকলেও কোনও পরিষ্কার পরিকল্পনা নেই যে কখন এবং কিভাবে ফিরে আসবেন। এমন জটিল পরিস্থিতিতে বিদেশের মাটিতে বেশ আতঙ্কেই দিন কাটাচ্ছে মেয়র পত্নী এবং তার পরিবার। (Middle East War Impact)
বসিরহাট:
ইরানে আটকে রয়েছেন বসিরহাটের গাজী পরিবার। আমির হোসেন গাজী, স্ত্রী ঊষা পারভীন এবং তিনটি সন্তান দীর্ঘদিন ধরে ইরানে পড়াশোনা ও শিক্ষকতার কাজে যুক্ত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের খবরের পর গত ৪৮ ঘণ্টা তাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। বসিরহাটের বাড়িতে বৃদ্ধা মা ইয়ার বানু বিবি সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। কবে সন্তানরা নিরাপদে দেশে ফিরবেন তারই অপেক্ষা। (Middle East War Impact)
রামনগর (পূর্ব মেদিনীপুর):
একই পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানার বেরা পরিবার। তাদের একমাত্র ছেলে তনয় বেরা কর্মসূত্রে দুবাইতে। মিসাইল হামলার পর থেকে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন তনয়। বিমান বা অন্য কোনও ফেরার বিকল্প না থাকায় চিন্তিত পরিবার। প্রতিদিন এলাকার মানুষজন এবং পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তবে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ক্রমেই উদ্বেগ ও আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। (Middle East War Impact)
এই অবস্থায় পরিবারগুলো শুধু প্রিয়জনদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছে। চোখের জল, দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের ছায়ায় প্রতিটি দিন কেটে যাচ্ছে। বিদেশে আটকে থাকা নাগরিকদের ফেরার নির্দিষ্ট সময় অজানা, এবং পরিবারগুলো ক্রমশ অবসন্ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে।
ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বিদেশে আটকা থাকা নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ফেরার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। তবে যুদ্ধ ও আকাশসীমা বন্ধ থাকায় প্রিয়জনদের দেশে ফেরা এখনও অনিশ্চিত।










