একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। জেলায় জেলায় আটক ও গ্রেফতার পঞ্চায়েত প্রধান, সদস্য থেকে প্রাক্তন বিধায়করা। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর একেবারে দুর্বিষহ অবস্থা তৃণমূলের। এবার পশ্চিম বর্ধমানের পান্ডবেশ্বর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে উঠল ভয়ঙ্কর অভিযোগ (Tmc Corruption)।
প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাঁকোলা এলাকার বাসভবন সংলগ্ন একটি গুদাম থেকে উদ্ধার হল সরকারি ত্রিপল ও অন্যান্য সরকারি ত্রাণসামগ্রী। অভিযোগ, যে ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল সেই সমস্ত সরকারি সামগ্রী বেআইনীভাবে গুদামে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাড়ির সামনের গুদামে যান। গুদামের দরজা ভেঙে দেখেন থরে থরে সাজানো রয়েছে ত্রাণ সামগ্রী। রয়েছে, হাঁড়ি, কড়াই, গামলা,মশারি থেকে শুরু করে শিশুদের জামা কাপড় এবং বিভিন্ন গৃহস্থালির সামগ্রী। স্থানীয়দের বক্তব্য, এটি সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের একটি বড় উদাহরণ হতে পারে এবং বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী গুদামে মজুত করে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি সামগ্রী গুদামে মজুত করে রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রাক্তন বিধায়কের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সমস্ত জিনিস বাজেয়াপ্ত করে। কেন ত্রাণ সামগ্রী বিলি করা হয়নি? তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এবিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি (Tmc Corruption)।
অন্যদিকে, বিতর্কে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুকুমার মাহাত। তাঁর ক্লাব ঘর থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণে সরকারি ত্রাণ ও কৃষি সামগ্রী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রাক্তন বিধায়ক চুরি করে সরকারি ত্রাণ বেআইনিভাবে ক্লাবে মজুত করে রেখেছিলেন। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, তোলাবাজি, ভয় দেখানো, জোর করে অন্যের জমি দখল করার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল ঝাড়গ্রাম শহরে। ঝাড়গ্রাম পুরসভার কাউন্সিলর তথা ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি নবু গোয়ালা। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, হুমকি এবং জোর করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল। বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেফতার করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তৃণমূল কাউন্সিলর নবু গোয়ালা ও তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারী দাবি করেন, তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি একটি জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য এবং অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার নবু গোয়ালাকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে, তোলাবাজির অভিযোগে হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় জড়িত ছিলেন তৃণমূল নেতা অশোক মাইতি। তাঁর বিরুদ্ধে, বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া,মারামারি,তোলাবাজির অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুক্রবার সকালে নিজের বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করল সুতাহাটা থানার পুলিশ।
রাজ্যে পালা বদলের পরই বিভিন্ন প্রান্তে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া অভিযান চলছে। এই অভিযানে ইতিপূর্বেই শাসকদলের একাধিক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই তোলাবাজি, সিন্ডিকেট চালানো এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সেই রেশ টেনেই এবার ঝাড়গ্রাম ও হলদিয়ায় দেখা গেল একই ছবি। যা নিয়ে, রাজনৈতিক মহলে জোর শোরগোল পড়ে গিয়েছে।









1 thought on “প্রাক্তন বিধায়কের ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার ত্রাণসামগ্রী! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা”