টলিউডে দীর্ঘ দিন ধরে চলা রাজনীতি, ব্যান কালচার থেকে শুরু করে কলকাতায় মেসি কাণ্ডের মতো একাধিক ঘটনার বার বার নাম জড়িয়েছে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ এর। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসও। তার পরেই শুক্রবার নিউ আলিপুরে স্বরূপ বিশ্বাস এবং অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত সুরুচি সংঘ ক্লাবে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। ক্লাবের সামনে টাঙানো দুর্গাপুজোর ব্যানার ছিঁড়ে বাঁশ দিয়ে ভাঙচুর চালায় স্থানীয় বাসিন্দারা। (Suruchi Sangha)
কলকাতার নামী দামি দুর্গাপুজো গুলোর মধ্যে অন্যতম সুরুচি সংঘের পুজো। প্রতি বছরই এই পুজোর উদ্বোধন করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সুরুচি সংঘেই এবার ভাঙচুর। শুক্রবার বিকেলে ক্লাবের সামনে জড়ো হন এলাকার কিছু মানুষ। পরে তাঁরা ক্লাবের তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। ক্লাবের উপরের তলায় উঠে বেশ কিছু জিনিস দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে একটি কিং সাইজ বেড, দু’টি চেয়ার, মিক্সার মেশিন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও ছিল বলে তাঁদের দাবি। যদিও স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি ওই ঘর থেকে এসি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘরে থাকা সিলিং ফ্যানও সাধারণ মানের নয় বলেই দাবি তাঁদের। পাশাপাশি ওই ঘরের সঙ্গে সংযুক্ত একটি শৌচালয়ও রয়েছে, যা যথেষ্ট বিলাসবহুল বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লাবে বিভিন্ন সরকারি সামগ্রীও অন্য পথে এনে মজুত করা হত। ক্লাবের আর একটি ঘরে বিপুল পরিমাণ সরকারি পানীয় জল ‘প্রাণধারা’র বোতল উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও ত্রাণ বণ্টনের জন্য রাখা বহু নতুন শাড়িও সেখানে পাওয়া গিয়েছে। এই সমস্ত সামগ্রী উদ্ধারের পর থেকেই সেখানে চলতে থাকা দুর্নীতি এবং কারচুপির অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। (Suruchi Sangha)
উল্লেখ্য, টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বাস ব্রাদার্সকে নিয়ে অসন্তোষ ছিলই। ইন্ডাস্ট্রির একাংশের দাবি, দাদা অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস টলিউডে নিজের একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন কলাকুশলী অনেকেই তাঁর আচরণে ক্ষুব্ধ।
প্রাক্তন বিধায়কের ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার ত্রাণসামগ্রী! তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা
এই আবহেই বৃহস্পতিবার রাতে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির মতো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এক মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার হন তিনি। অভিযোগকারিণীর দাবি, গত দু’বছর ধরে তিনি কোনও কাজ পাননি। কাজের আবেদন নিয়ে যোগাযোগ করলে তাঁর কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি টাকা না দিলে ভবিষ্যতেও কাজ পাওয়া যাবে না বলেও তাঁকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন ওই মেকআপ আর্টিস্ট। (Suruchi Sangha)
বিগত কয়েকদিনের এই সমস্ত ঘটনার পর সুরুচি সংঘে এই ভাঙচুর আসলে এতদিন ধরে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এদিন বিক্ষোভকারীরাও দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক অভিযোগ আনেন। ক্লাবের চাকচিক্যের আড়ালে অসামাজিক কাজকর্ম চলত বলেও অভিযোগ তুলেছে তারা।











