২ মে। আজ এমন এক মানুষের জন্মদিন, যার হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগত প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। তিনি সত্যজিৎ রায়। তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্রকার নন, এক সম্পূর্ণ সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান। তার হাত ধরেই বাংলা সিনেমার নবজাগরণ (Satyajit Ray) হয়েছিল। আজ এই মহান চলচ্চিত্রকারের ১০৪ তম জন্মজন্মজয়ন্তী। যিনি বাংলা ছবিকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন।
বাংলা তথা বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসে সত্যজিৎ রায়ের চিত্রভাবনা, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজচেতনা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। দলীয় রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি যে স্পষ্ট ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক উচ্চারণ করেছেন, তা আজকের সময়েও বিরল। জীবনের নানা স্তরকে তিনি যে গভীরতায় ও সংযমে তুলে ধরেছেন, তা অনুকরণীয় হলেও প্রায় অধরা।
সত্যজিৎ রায়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল ক্যামেরার সামনে নয়, বরং কাগজ-কলম আর নকশার জগতে। ১৯৪৩ সালে বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কেইমারে কাজ শুরু করে তিনি অক্ষর ও ছবির মেলবন্ধনে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান। পরে ‘সিগনেট প্রেস’-এ প্রচ্ছদশিল্পী হিসেবে কাজ করার সময় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আম আঁটির ভেঁপু’ তাঁর হাতে এসে পৌঁছয়। সেখান থেকেই জন্ম নেয় এক চলচ্চিত্রকারের স্বপ্ন।
আসলে সত্যজিৎ রায় রায়কে (Satyajit Ray) একটা ছবি দিয়ে বাঁধা সম্ভব নয়। তার মূল্যায়নও সম্ভব নয়। ‘হীরক রাজার দেশে’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮০ সালে। ‘হীরক রাজার দেশে’ -শুধু কোনও এক বিশেষ স্বৈরাচারীর দিকে আঙুল তোলে না। যেখানে যে বা যারা একনায়কতন্ত্র গড়ে তুলতে চায়, তাদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। দেখায়, শিক্ষা ব্যবস্থা তুলে দিয়ে বা কুক্ষিগত করে রাজবন্দনা সাময়িক ভাবে করা যায় হয়তো, কিন্তু তাই দিয়ে একটা সমাজকে চিরকাল বেঁধে রাখা যায় না।
একই সময়ে ঋত্বিক ঘটক দেশভাগের যন্ত্রণা নিয়ে কাজ করেছেন। চাকরির মরা বাজার, বেকারত্ব, তরুণ সমাজের রুখে দাঁড়ানোর কথা উঠে এসেছে মৃণাল সেনের ছবিতে। সত্যজিতের ছবিগুলিও সমাজের তৎকালীন পরিস্থিতির আয়না হয়ে উঠেছে। ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’র খুব কাছাকাছি ‘জন অরণ্য’, যেখানে তিনি সমাজের সামগ্রিক ঘূণ ধরা পরিস্থিতিটাকেই সামনে নিয়ে এসেছেন।
সত্যজিৎ রায়ের ১০৪ তম জন্মজন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও বাঙালির গর্ব সত্যজিৎ রায়ের জন্মবার্ষিকীতে জানাই আমার শ্রদ্ধা। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি শুধু বাংলা নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও এক অমূল্য সম্পদ।”









