এক্কেবারে প্রশাসনের নাকের ডগায়। প্রশাসনের চোখে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বেআইনিভাবে চলছে মাটি ব্যবসা। ডাম্পার ভর্তি মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত বারুইপুর খানা এলাকার হাড়দহ পঞ্চায়েত এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, একাধিক ডাম্পারে করে ওই এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের বক্তব্য, এই মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ময়দানে নেমেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা গৌতম চক্রবর্তীর অভিযোগ, মাটি চুরি তৃণমূল নেতাদের রক্তে মিশে গেছে, আর সেই কারণেই প্রশাসন চুপ করে রয়েছে। তার দাবি, এই মাটি চুরির সঙ্গে ভিন রাজ্যের শ্রমিকেরাও জড়িত এবং যে ডাম্পারগুলিতে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেগুলির অনেকগুলিতেই নাম্বার প্লেট নেই। এই ঘটনার জবাব মানুষই দেবে বলেও দাবি করেছেন বিজেপি নেতার।
প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন কাজ। আর পঞ্চায়েত নাকি কিছুই জানে না। এই সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলে জানান, হাড়দহ পঞ্চায়েতের প্রধান হাসিনা লস্কর।
অন্যদিকে বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ও বারুইপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুকুর খননের জন্য মাটি কাটা হচ্ছে নাকি বেআইনীভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ দিনে দুপুরে মাটি কেটে জমিকে পুকুরে পরিণত করছে মাটি মাফিয়ারা। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে চাষযোগ্য জমি। অসংখ্য ট্রাক্টর বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে, ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তায় খেলা করে যে কোন সময় বড় ধরণের বিপদ ঘটে যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশের অভিযোগ, প্রশাসনিক আধিকারিকেরা এলাকায় আসেন, কিন্তু মাটি চুরি তাঁদের নজরে পড়ে না। রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।











