দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও শশাঙ্ক মণ্ডল
মাঠে বোঝাই করা বালি, স্টোনচিপস, বর্ষায় জমে থাকে জলও। ইচ্ছা হলেও মাঠে খেলতে যেতে পারে না এলাকার বাচ্চারা। এমনই বেহাল দশা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত শিবনাথ শাস্ত্রী মাঠ বা দাসপুকুর মাঠের। অনেকেই একে চেনে পৌষমেলা মাঠ নামেও। মাঠটির এই অবস্থার জন্য তৃণমূল কাউন্সিলর শিবানী ঘোষ এবং তাঁর ছেলে সোমনাথ ঘোষের দিকেই আঙুল তুললেন এলাকাবাসী। (Sonarpur News)
শহরের বড় বড় বিল্ডিং আর গাড়ির ভিড়ে সবুজের দেখা এখন আর মেলেই না। তবু যদি কোথাও একটা দুটো ছোটো মাঠের দেখা মেলে তারও অবস্থা শোচনীয়। দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছে এই শিবনাথ শাস্ত্রী মাঠটিও। আগে নিয়মিত বাচ্চারা এই মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট খেলত। এককালে এই মাঠেই প্র্যাকটিস করেছেন সুভাষগ্রামের গর্ব শুভাশিস বোস, বর্তমানে মোহনবাগান অধিনায়ক। তবে এখন প্র্যাক্টিস তো দূর, মাঠে যেতেই পারে না বাচ্চারা।
অভিযোগ তৃণমূল সরকারের আমলে এলাকায় পথশ্রী প্রকল্পের রাস্তা তৈরির কাজের জন্য যে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এসেছিল তার বেশিরভাগটাই রাখা হয়েছে এই মাঠে। তবে কাজ শেষ হয়ে গেলেও অতিরিক্ত কাঁচামাল আর সেখান থেকে সরানো হয়নি। মাঠের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে স্তূপ করে রাখা বালি, রাস্তা ঢালাইয়ের পিচ। এলাকাবাসীর অভিযোগ দীর্ঘদিনের এই সমস্যার কথা স্থানীয় কাউন্সিলর শিবানী ঘোষকে জানানো হলেও কোন সমাধান মেলেনি।
কমল বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম, আমজনতার স্বস্তি!
শুধু মাঠ না, এলাকার রাস্তাগুলির দশাও বেহাল। রাস্তা জুড়ে খানা খন্দ। একটু বৃষ্টি হলেই দাঁড়িয়ে যায় জল। ফলে নিত্য দিনের যাতায়াতে সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। এবিষয়ে রিকশা চালক সুখদেব তাঁতি জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার জন্য গাড়ি-ঘোড়া চলাচলে অসুবিধা হয়। হাসপাতাল বা স্কুলে যেতে সমস্যায় পড়তে হয় রোগী বা ছাত্র ছাত্রীদের। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে এলাকায় চলাফেরা করা মুশকিল হয়ে যাবে। (Sonarpur News)
স্থানীয় বাসিন্দা রবীন দেবনাথ বলেন, তৃণমূলের আমলে শিবানী ঘোষ কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকেই এই সমস্ত সমস্যার সূত্রপাত। এলাকার একটি মাত্র মাঠ কার্যত পরিত্যক্ত। একাধিকবার অভিযোগ করেও হয়নি সুরাহা। একই অভিযোগ শোনা গেল প্রাক্তন তৃণমূল নেতা গোপাল চক্রবর্তীর গলায়ও।
এদিকে কাউন্সিলর শিবানী ঘোষের ছেলে সোমনাথ ঘোষের দাবি, পথশ্রী প্রকল্পের সময় কাঁচামাল জড়ো করার জন্য উপযুক্ত জায়গা না থাকায় যে সংস্থার তরফে কাজ করা হচ্ছিল তারা ওই মাঠটিকে বেছে নেয়। মাঠটি মূলত পুরসভারই মাঠ। যদিও প্রকল্পের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও অবশিষ্ট কাঁচামাল সেখানে পড়ে থাকায় এখন মাটির দশা কিছুটা বেহাল হয়ে রয়েছে। তবে আগামী মাসে ফের প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেই সময় ওইসব কাঁচামাল মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেই জানান তিনি। (Sonarpur News)
তবে ঠিক কবে এই মাঠ থেকে রাস্তা তৈরির সমস্ত কাঁচামাল সরিয়ে মাটিকে আবার পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা হবে সে দিকেই নজর এলাকাবাসীর।










