আবাস যোজনা-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা তোলার অভিযোগ এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে (Cut Money Allegations)। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরের ওই তৃণমূল নেতা। টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী। ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সোনারপুর থানার প্রতাপনগর এলাকায় কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। (Cut Money Allegations) অভিযোগের তির স্থানীয় সাঙ্গুর গ্রামের তৃণমূল নেতা উপেন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে। আবাস যোজনার ঘর, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে তিনি বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
(Cut Money Allegations) স্থানীয়দের দাবি, আবাসে ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপেন্দ্র মণ্ডল প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। কারও কাছ থেকে ৫ হাজার, কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, আবার অনেকের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু আবাস যোজনাই নয়, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও টাকা তোলা হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত নেতার বাড়িতে গিয়ে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। সেই সময় উপেন্দ্র মণ্ডল বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা যায়। তবে তাঁর স্ত্রী বিক্ষোভকারীদের সামনে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি স্থানীয়দের। আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ওই টাকার একটি অংশ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য প্রশান্ত সরদারকে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
দিল্লি থেকে ফিরেই CID-র মুখোমুখি অভিষেক, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ হাই কোর্টের
এরপর উত্তেজিত জনতা পঞ্চায়েত সদস্য প্রশান্ত সরদারের বাড়িতেও যান। যদিও তাঁর দাবি, এই অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই এবং কাটমানির টাকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আদৌ এই টাকার ভাগ কতদূর পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন।
অভিযোগকারিদের বক্তব্যে উঠে এসেছে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দা মিহির মণ্ডল জানান, “আমার ভাই সরকারি ঘর পেয়েছে। ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে ঘর আটকে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। আমি চাই আমার ভাইয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হোক। যত মানুষ ঘর পেয়েছে, প্রায় সবার কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে।”
আর এক বাসিন্দা নূরবানু বলেন, “দুটি ঘরের জন্য আমার কাছ থেকে ২৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পরই ফোন করে টাকা চাইতেন। শুধু আমার নয়, এলাকায় অনেকের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে।”
উষা মিদ্দা অভিযোগ করেন, “প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। তখন ১০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। আমি ৭ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে আবার টাকা চাওয়া হয়। বলা হয়েছিল, ঘর হচ্ছে বলে টাকা দিতেই হবে।”
খিচুড়িতে টিকটিকি! অসুস্থ ৩০ মা-শিশু, হাসপাতালে ছুটলেন বিধায়ক ও প্রশাসনের কর্তারা
(Cut Money Allegations) একই অভিযোগের সুর রূপা সাপুইয়ের গলাতেও। তিনি বলেন, “সরকার ঘর দিয়েছে, কিন্তু সেই ঘরের জন্য ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। অনেককে ২০ হাজার টাকাও দিতে হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, ঘরের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করে দেওয়ার জন্যও ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। আমরা কোথায় কী করতে হবে জানতাম না, তাই ওঁর উপর নির্ভর করতাম।”
(Cut Money Allegations) স্থানীয় বাসিন্দা অসীম মিদ্দার অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁর দাবি, “ঘর পাওয়ার আগে ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল প্রথম কিস্তি এলে ১০ হাজার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। মোট ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। এছাড়াও ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। টাকা না দিলে কাজ হবে না বলে জানানো হয়েছিল। পরে আমার ঘরের আবেদন বাতিল হয়ে যায়।”
এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, শুধু আবাস যোজনাই নয়, জমি পাইয়ে দেওয়া, জব কার্ড সংক্রান্ত কাজ এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামেও টাকা তোলা হয়েছে। কারও কারও দাবি, জব কার্ড পর্যন্ত জমা রেখে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি কাটমানির এই অভিযোগের শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
দলের সাধারণ সম্পাদকই ভরসা রাখলেন না! অভিষেকের মামলা থেকে সরে ক্ষোভ শীর্ষণ্যের, বিস্ফোরক কল্যাণও












1 thought on “কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও, টাকা ফেরতের আশ্বাস স্ত্রীর”