পৃথিবীকে রক্ষা করার লড়াইয়ে আজ বহু মানুষই হাঁটছেন সবুজের পথে। প্লাস্টিক, থার্মকল আর অপচয়ের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে পরিবেশবান্ধব বিকল্প খোঁজার এই যাত্রায় এ বার ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরি করল কলকাতার তিলজলা হাই স্কুল। তাদের বার্তা স্পষ্ট—উৎসবে আনন্দের সঙ্গে থাকুক দায়িত্বও (Saraswati Puja)।
“ক্রয় নয়, পুনর্ব্যবহারই পথ”—এই দর্শনকে সামনে রেখেই এ বছর সরস্বতী পুজোয় কোনও প্রতিমা কেনা হয়নি স্কুলে। বাজারমুখী আড়ম্বর নয়, বরং পরিত্যক্ত কাঠামো আর ব্যবহৃত মাটিকে নতুন রূপ দিয়ে নিজেদের হাতেই তৈরি হয়েছে সরস্বতী প্রতিমা। গাছের তলায় পড়ে থাকা পুরনো কাঠামো সংগ্রহ, ভাঙা প্রতিমার মাটি রিসাইকেল, প্রাকৃতিক উপকরণে নতুন গড়ন—পুরো প্রক্রিয়াটি ছাত্ররাই সম্পন্ন করেছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তত্ত্বাবধানে।

ইচ্ছাকৃতভাবেই এই নির্মাণে বাদ দেওয়া হয়েছে থার্মোকল, প্লাস্টার অফ প্যারিস ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক রং। শুধুমাত্র মাটি ও প্রাকৃতিক রঙ ব্যবহার করে ছাত্ররা হাতে-কলমে শিখেছে—কীভাবে সামান্য সচেতনতা বড় পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে পারে। এই প্রতিমা তাই শুধু পুজোর অনুষঙ্গ নয়, বরং পরিবেশ শিক্ষার এক জীবন্ত পাঠ।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগের শিক্ষামূল্য অসাধারণ। দলগত পরিকল্পনা, পরিশ্রমের মূল্য বোঝা, ফেলে দেওয়া জিনিসকে নতুন সৃষ্টির উপাদান হিসেবে দেখা—এই অভিজ্ঞতা ছাত্রদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতা গড়ে তুলছে।
প্রধান শিক্ষিকা সাথী মাইতি ব্যানার্জির কথায়, “সব ছাত্র পড়াশোনায় সমান মেধাবী হয় না। কিন্তু কারও কারও হাতে অসাধারণ শিল্পগুণ থাকে। আমরা ওদের ওপর ভরসা রেখেছিলাম বলেই আজ এত সুন্দর একটি প্রতিমা আমাদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে।”
তিলজলা হাই স্কুলের এই প্রয়াস মনে করিয়ে দেয়—উৎসব মানে শুধু আলো, বাজনা আর ব্যয় নয়। উৎসব হতে পারে সচেতনতার ভাষা, পরিবেশ রক্ষার নীরব শপথও।











