বিধানসভায় নিবার্চনের আর হাতে গোনা কয়েকটি দিন বাকি। জেলায় জেলায় প্রস্তুতি পর্ব তুঙ্গে। সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক সেই সব জায়গায় যেতেই পারেন, তাতে কোনও অসুবিধা নেই। তবে সেই সফরে যদি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে যান তবে তো নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠেই। সেই ছবিই এবার দেখা গেল নন্দীগ্রামে। (West Bengal Election)
সম্প্রতি নন্দীগ্রামে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়ালের সফর ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, তিনি বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে এলাকা ঘুরেছেন। এই ঘটনাকে নির্বাচনী বিধিভঙ্গ বলে দাবি করে তাঁকে সাসপেন্ড করার দাবিও তুলেছে তৃণমূল।
তৃণমূলের অভিযোগ, সিইও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারেন, এতে কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু নির্দিষ্ট একটা দলের নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ঘোরা নির্বাচনী বিধির বিরোধী। গত সোমবার নন্দীগ্রামে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ নেতা তপন মহাপাত্রের সঙ্গে সিইও ঘোরেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রচার মঞ্চ থেকেই সরব হন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “শুনলাম সিইও নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন। বিজেপির লোকেরা সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছেন।” (West Bengal Election)
এরপর মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষ। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “তপন মহাপাত্রের সঙ্গে ছিলেন সিইও। ওই নেতাকে বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ বলে সবাই জানেন। তাঁর সঙ্গেই নন্দীগ্রামে ঘুরেছেন।” অন্যদিকে কুণাল ঘোষের দাবি, বিজেপির সুপারিশ করা লোকদের ঢুকিয়ে ভোটে কারচুপি করার চেষ্টা হচ্ছে।
যদিও অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গায়ে কি বিজেপির পতাকা ছিল? এইসব কথার উত্তর দেব না। বিজেপির লোকেরাই ভোট পরবর্তী হিংসায় খুন হয়েছেন। তাঁদের কাছে কোনও সাংবিধানিক আধিকারিক যেতে পারবেন না?”
এই ঘটনার পর মঙ্গলবারই দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দফতরে চিঠি পাঠায় তৃণমূল। সেখানে অভিযোগ করা হয়, সিইও হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় ঘুরে ভোটারদের মতামত জানতে চেয়েছেন। সেই সময় বিজেপির কালীচরণপুর এরিয়া কমিটির কনভেনার তপন কুমার মহাপাত্রও সঙ্গে ছিলেন। তৃণমূলের দাবি, তিনিই সিইও-কে বাড়ি বাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। (West Bengal Election)
এই ঘটনার আগেও শাসকদলের পক্ষ থেকে বারবারই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের নানান আচরণ এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সব ঘটনার সত্যতা জানা না গেলেও বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মনেও এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।













1 thought on “West Bengal Election: নন্দীগ্রামে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠর সঙ্গে বাড়ি বাড়ি ঘুরলেন CEO, নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে সাসপেনশনের দাবি তৃণমূলের”
Comments are closed.