শেষ হয়েছে বঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। এখন সবার নজর ৪ মে ভোট গণনায়। তার আগে পর্যন্ত ইভিএম মেশিনগুলো নিরাপদে রাখাই এখন নির্বাচন কমিশনের কাঁধে বড় দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্বে যাতে কোনও ফাঁকফোকর না থাকে তার জন্য এবার একাধিক নতুন ব্যবস্থা নিল কমিশন।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, স্ট্রংরুম ও কাউন্টিং সেন্টারের নিরাপত্তা বাড়াতে চালু করা হচ্ছে QR কোড-ভিত্তিক ফটো আইডি সিস্টেম। অর্থাৎ, এখন থেকে যাঁরা কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকবেন, তাঁদের পরিচয় শুধুমাত্র কার্ড দেখে নয়, QR কোড স্ক্যান করেও যাচাই করা হবে। এতে অননুমোদিত কারও ঢোকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে। (West Bengal Election Result)
কী কী বদল আসছে?
QR কোড আইডি বাধ্যতামূলক: কমিশনের ECINET সিস্টেমের মাধ্যমে তৈরি এই আইডি ছাড়া কাউন্টিং সেন্টারে প্রবেশ করা যাবে না।
ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
১) প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে আইডি ম্যানুয়ালি চেক করা হবে
২) তৃতীয় স্তরে QR কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ফাইনাল ভেরিফিকেশন
সব স্তর পেরোলেই তবেই ঢোকার অনুমতি।(West Bengal Election Result)
কারা এই আইডি পাবেন?
রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, গণনাকর্মী, টেকনিক্যাল স্টাফ, প্রার্থী, এজেন্ট—সবাই এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবেন।
মিডিয়া এন্ট্রি আগের মতোই:
সাংবাদিকদের জন্য আলাদা মিডিয়া সেন্টার থাকবে। তবে ঢুকতে হলে আগের মতোই অথরিটি লেটার দেখাতে হবে।
বিশেষ নজরদারি চেকপয়েন্ট:
নির্দিষ্ট জায়গায় প্রশিক্ষিত কর্মী রাখা হবে, যাতে প্রতিটি প্রবেশপথে কড়া নজরদারি থাকে।
কমিশনের দাবি, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা—তিনটিই অনেকটাই বাড়বে। শুধু এবারই নয়, ভবিষ্যতে লোকসভা ও অন্যান্য নির্বাচনেও এই ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে।
Mamata Banerjee: ‘২০২৬-এ ২২৬টা আসন পাব’, বিজেপির বিরুদ্ধে এক্সিট পোলে কারচুপির অভিযোগ মমতার
কোন জেলায় কতগুলি কেন্দ্রে হবে ভোট গণনা?
মোট ভোট গণনা কেন্দ্র: ৭৭ টি।
- উত্তর ২৪ পরগনা: ৩৩ টি আসন, ৭ টি ভোট গণনা কেন্দ্র।
- দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৩১ আসন, ১২ টি কেন্দ্র।
- আলিপুরদুয়ার: ৫ টি আসন, ১ টি কেন্দ্র।
- জলপাইগুড়ি: ৭ টি আসন, ২ টি কেন্দ্র
- কালিম্পং: ১ টি আসন, ১ টি কেন্দ্র।
- ঝাড়গ্রাম: ৪ টি আসন, ১ টি কেন্দ্র।
- কোচবিহার: ৯টি আসন, ৫টি কেন্দ্র।
- দার্জিলিং: ৫টি আসন, ৩টি কেন্দ্র।
- উত্তর দিনাজপুর: ৯টি আসন, ২টি কেন্দ্র।
- দক্ষিণ দিনাজপুর: ৬টি আসন, ২টি কেন্দ্র।
- মালদহ: ১২টি আসন, ২টি কেন্দ্র।
- মুর্শিদাবাদ: ২২টি আসন, ৬টি কেন্দ্র।
- নদিয়া: ১৭টি আসন, ৪টি কেন্দ্র।
- হাওড়া: ১৬টি আসন, ৪টি কেন্দ্র।
- হুগলি: ১৮টি আসন, ৬টি কেন্দ্র।
- পূর্ব মেদিনীপুর: ১৬টি আসন, ৪টি কেন্দ্র।
- পশ্চিম মেদিনীপুর: ১৫টি আসন, ৪টি কেন্দ্র।
- পুরুলিয়া: ৯টি আসন, ৩টি কেন্দ্র।
- বাঁকুড়া: ১২টি আসন, ৩টি কেন্দ্র।
- পূর্ব বর্ধমান: ১৬টি আসন, ৩টি কেন্দ্র।
- পশ্চিম বর্ধমান: ৯টি আসন, ২টি কেন্দ্র।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের গণনার আগে স্ট্রংরুমকে সত্যিই “আরও স্ট্রং” করে তুলতে কোনও খামতি রাখছে না নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, ৪ মে গণনা কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। (West Bengal Election Result)









