ভারতে শুরু হয়েছিল ‘Cockroach Janta Party’ বা CJP-র উত্থান। কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক ট্রেন্ড ছড়িয়ে পড়ল পাকিস্তানেও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল ‘Cockroach Awami Party’, ‘Cockroach Awami League’ এবং ‘Muttahida Cockroach Movement’-এর মতো একাধিক পেজ। ভারতের তরুণদের ক্ষোভ, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক হতাশাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই ডিজিটাল আন্দোলন এবার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের যুব সমাজের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে। (Cockroach Janata Party)
গত ১৬ মে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশ করে ‘Cockroach Janta Party’। কয়েক দিনের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে কোটি কোটি ফলোয়ার জুটে যায় এই পেজের। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই CJP-র ফলোয়ার সংখ্যা ২ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে যায়। এমনকি বিজেপির অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজের ফলোয়ার সংখ্যাকেও টপকে যায় এই ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম। শুধু ইনস্টাগ্রামই নয়, এক্স হ্যান্ডলেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে CJP। যদিও পরে আইনি নির্দেশের জেরে ভারতে তাদের এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করা হয় বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। (Cockroach Janata Party)
এই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। বয়স ৩০। বর্তমানে আমেরিকার বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এর আগে আম আদমি পার্টির রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, দেশের তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়েই শুরু হয়েছিল এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন। CJP নিজেদের “Voice of the Lazy and Unemployed” বলেও পরিচয় দেয়। (Cockroach Janata Party)
আসলে গোটা বিতর্কের সূত্রপাত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। একটি শুনানিতে তিনি কিছু বেকার যুবক ও ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে ‘ককরোচ’ এবং ‘প্যারাসাইট ’ শব্দ ব্যবহার করেছিলেন। সেই মন্তব্য ঘিরেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরে বিচারপতি অবশ্য স্পষ্ট করেন, সমস্ত যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে ওই মন্তব্য করেননি। কিন্তু সেই মন্তব্যই ‘Cockroach Janta Party’ র জন্মের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।
ভারতে ভাইরাল হওয়ার পর এবার পাকিস্তানেও একই ধাঁচে তৈরি হয়েছে একাধিক পেজ। ‘Cockroach Awami Party’-র বায়োতে লেখা হয়েছে, “A political front of the youth, by the youth, for Pakistan।” অন্য একটি পেজে দাবি করা হয়েছে, “আওয়াম আমাদের শক্তি, ইনসাফ আমাদের প্রতিশ্রুতি।” পাকিস্তানের এই পেজগুলির লোগো ও ডিজাইনও অনেকটা ভারতের CJP-র মতো। তবে সেখানে সবুজ-সাদা রঙ ব্যবহার করা হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার আদলে। (Cockroach Janata Party)
পাকিস্তানের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ট্রেন্ড ঘিরে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ একে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটা আসলে যুব সমাজের ক্ষোভ ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ভারতের মতো পাকিস্তানেও দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তরুণদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। সেই কারণেই ‘Cockroach’ আন্দোলন সেখানে এত দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে CJP-কে ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশের দাবি, এই পেজের বহু ফলোয়ার নাকি পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্ক থেকে এসেছে। যদিও প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের দাবি, তাদের ৯৪ শতাংশ ফলোয়ারই ভারতীয়। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ তুলে ধরার একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। (Cockroach Janata Party)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ‘Cockroach Janta Party’র— মিম, প্রতিবাদ নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা?












1 thought on “ভারতের আরশোলা এবার পাকিস্তানেও, পড়শি দেশে শুরু ককরোচদের রাজনৈতিক দল”