রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ অজানা তথ্য মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

রক্তাক্ত পাইলটকে বাঁচাতে ৪৫ মিনিটের লড়াই, কীভাবে স্মিতকে বাঁচিয়েছিলেন চিকিৎসক?

Published on: October 7, 2026
---Advertisement---

“ঘুমিয়ে পড়বেন না, আমাদের আপনাকে দরকার।” বিমানের ককপিটের মেঝেতে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে বারবার এই কথাই বলছিলেন ডাঃ শুটা মুসায়েভ। ৩০ সেপ্টেম্বর তেল আভিভগামী বিমানে হামলার পর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন স্মিত। সেই সময় বিমানে একমাত্র চিকিৎসক ছিলেন জর্জিয়ার বাসিন্দা এবং ইজরায়েলে থাকা দন্ত চিকিৎসক মুসায়েভ। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁর সামনে একটাই লক্ষ্য ছিল—যেভাবেই হোক আহত পাইলটকে সচেতন রাখা এবং রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা। (Smit Machchhar)

হামলার পর ককপিটে রক্তাক্ত স্মিত

সহ-পাইলট ও ওমানের নাগরিক হামাম আল-হামামির হামলার পর বিমানে চিৎকার শুনে ছুটে যান মুসায়েভ। প্রথমে হামলাকারীকে আটকাতে সাহায্য করেন তিনি। এরপর ককপিটে নজর পড়ে স্মিতের দিকে। মুসায়েভ দেখেন, মাথা ও বাঁ হাতে গুরুতর ক্ষত নিয়ে মেঝেতে পড়ে রয়েছেন স্মিত। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছিল। পরিস্থিতি সামলাতে বিমানকর্মীদের কাছ থেকে টি-শার্ট নিয়ে ক্ষতস্থানে চাপ দিতে শুরু করেন তিনি। পরে বরফ চেয়ে নেন। একের পর এক বরফের প্যাকেট ব্যবহার করা হয়। (Smit Machchhar)

মুসায়েভ জানান, টি-শার্ট সরিয়ে ক্ষত দেখলেই আবার রক্তপাত বেড়ে যাচ্ছিল। তাই খুব বেশি চাপ না দিয়ে বরফের সাহায্যে ৪৫ মিনিট ধরে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন তিনি।

পরিবারের কথা বলে সচেতন রাখেন

শুধু রক্তপাত বন্ধ করাই নয়, স্মিত যাতে জ্ঞান না হারান, সেদিকেও নজর ছিল মুসায়েভের। তিনি পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। তাঁর সন্তানদের নাম জানতে চান। তাঁকে বলেন, ভয় পাওয়ার কিছু নেই। খুব তাড়াতাড়ি বিমান অবতরণ করবে এবং তিনি পরিবারের কাছে ফিরে যাবেন। স্মিত নিজের নাম ও বয়স জানান। বলেন, তিনি ভারতীয় এবং দুবাইয়ে থাকেন। এক সময় তিনি মুসায়েভকে অনুরোধ করেন, “আমাকে সাহায্য করুন। আমি এখানে মরতে চাই না।” এবং মুসায়েভ তাঁকে আশ্বস্ত করতে থাকেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। (Smit Machchhar)

আচমকাই কমে যায় নাড়ির গতি

এর মধ্যেই স্মিতের অবস্থার আরও অবনতি হয়। মুসায়েভের কথায়, এক সময় তাঁর নাড়ির গতি খুব কমে যায়। তখন তিনি স্মিতের পা তুলে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে নাড়ির গতি ফিরে আসে। পরে স্মিতের ঠোঁট নীল হয়ে যেতে দেখেন তিনি। তখনই বিমানকর্মীকে দ্রুত বিমান অবতরণের ব্যবস্থা করতে বলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, আর বেশি সময় হাতে নেই। স্মিত ব্যথার ওষুধ চাইলেও মুসায়েভ তা দিতে রাজি হননি। তাঁর আশঙ্কা ছিল, আহত অবস্থায় স্মিতকে নড়াচড়া করানো বা ওষুধ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। তাই তিনি মূলত সচেতনতা, নাড়ির গতি এবং ঠোঁটের রং দেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।

যাত্রীরাও সামলান বিমানের পরিস্থিতি

স্মিত আহত অবস্থাতেও শেষ মুহূর্তে ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। এদিকে যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে বিমান নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেন। পরে তৃতীয় এক পাইলট বিমানের দায়িত্ব নেন। বিমানের কয়েকজন যাত্রীও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন। আরও কোনও হামলাকারী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। (Smit Machchhar)

সৌদি আরবে অবতরণের পর চিকিৎসকদের হাতে স্মিত

শেষ পর্যন্ত বিমান সৌদি আরবে অবতরণ করে। মাটিতে নামার পর মুসায়েভ স্মিতকে চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেন। বিদায়ের সময় তাঁকে বলেন, “শুভকামনা বন্ধু। সব ঠিক হয়ে যাবে।” ঘটনার পর মুসায়েভ এবং তাঁর স্ত্রীও মানসিক ধাক্কার মধ্যে দিয়ে যান। তবে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও স্মিতের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা স্পষ্ট। মুসায়েভের কথায়, স্মিত আগে তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। তাই তাঁর জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করাটা ছিল তাঁদের কাছে স্বাভাবিক প্রতিদান।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্মিতকে ‘হিরো’ বলে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, স্মিত মচ্ছর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থারও ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। (Smit Machchhar)


Ranita Saha

নতুন নতুন বিষয় জানার ইচ্ছে থেকেই সাংবাদিকতার পেশায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্নাতকোত্তরের ছাত্রী। কলেজ জীবন থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার লেখালেখি শুরু। বাংলা, ইংরেজির পাশাপাশি হিন্দিতেও স্বচ্ছন্দ। রাজনীতি ছাড়াও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক এবং বিনোদন সংক্রান্ত খবর লিখতে ভালো লাগে। অবসর সময়ে বই একমাত্র বন্ধু। পড়ালেখার পাশাপাশি গান, নাচ এবং আঁকা ভালোবাসার বিষয়।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Subscribe Now