ট্রাম্প বার বার শান্তি চুক্তির কথা বললেও আসলে তা নিতান্তই ফাঁকা আওয়াজ- এমনটাই দাবি ইরানের। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে স্যোশাল মিডিয়ায় দাবি করেছিলেন, শান্তি ফেরাতে ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে। কিন্তু মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের সেই দাবি খারিজ করে দিল ইরান। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি। যুদ্ধবিরতি নিয়ে শুধু অনুরোধ এসেছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রক একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩১ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে যুদ্ধের। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটন পাকিস্তান-সহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছে আমেরিকা। তিনি বলেন, “ইরানে লাগাতার আমেরিকা এবং ইজরায়েলে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা আত্মরক্ষার উপরে সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করে রয়েছি। আমাদের সঙ্গে যে কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা হয়েছে, সেটাও আমরা বুঝতে পারছি।” (Iran-Israel War)
প্রসঙ্গত, রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেন আমেরিকার ১৫ দফা শর্তের বেশিরভাগই মেনে নিয়েছে ইরান। আমরা ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আলোচনা করছি। তিনি বলেন, “যদিও ইরানের বিষয়ে কিছুই বলা যায় না। তা-ও আমরা জোর কদমে তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
Donald Trump: খুব শিগগিরই ইরানের সঙ্গে সংঘাত থামতে পারে, ইঙ্গিত ট্রাম্পের
কিন্তু এর পর ৩১ মার্চ, মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হঠাৎ জানিয়েছেন যুদ্ধ নাকি খুব শীঘ্রই শেষ হবে। সময় বেঁধে দিয়ে তিনি বলেছেন, মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই নাকি ইরান ত্যাগ করবে মার্কিন সেনা। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তি করাতেও জোর দেননি ট্রাম্প। বরং বলেছেন চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ থেকে সরে আসবেন। (Iran-Israel War)
এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান এবং আমেরিকার এই পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












