পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, এরই মধ্যে চিন সফরে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক ছিল চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই রাষ্ট্রনেতার বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ইরান পরিস্থিতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
এদিন বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্পকে করমর্দন করে স্বাগত জানান শি জিনপিং। গ্রেট হল অব দ্য পিপলের সামনে সামরিক কুচকাওয়াজ, জাতীয় সঙ্গীত এবং শিশুদের পতাকা নাড়িয়ে অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিল মার্কিন ও চিনা প্রতিনিধিদলও। (Trump Xi Jinping Meeting)
বৈঠকে ট্রাম্প শি জিনপিংকে দারুণ নেতা বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ট্রাম্পের দাবি, চিন ও আমেরিকার সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও ভালো হবে এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ দারুণ হতে চলেছে। অন্যদিকে শি জিনপিং স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, আমেরিকা ও চিনের “প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার” হওয়া উচিত। তাঁর কথায়, আমেরিকা-চিন সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকের মাঝামাঝি পর্যায়ে তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন শি জিনপিং। চিনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শি জিনপিং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মতভেদ দুই দেশকে সরাসরি যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
Jabalpur Robbery: ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে ডিজেল লুট, চাঞ্চল্য মধ্যপ্রদেশে
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অস্ত্র সহায়তার অনুমোদন দিয়েছিল, যদিও সেই অস্ত্রের সরবরাহ এখনও শুরু হয়নি। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই আলোচনায় মূলত বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি আশা করছেন, চিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পরিমাণে কৃষি পণ্য এবং যাত্রীবাহী বিমান ক্রয়ের বিষয়ে একমত হবে। গত বছর ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা শেষ করতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। (Trump Xi Jinping Meeting)
এই বৈঠকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ও দুই নেতার আলোচনায় উঠে এসেছে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ পুনরায় খুলে দিতে ট্রাম্প চিনকে নিযুক্ত করে নয়া পরিকল্পনা করতে পারেন বলেও খবর। তবে ইরান যাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তে দীর্ঘমেয়াী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, সে জন্য বেইজিং তেহরানকে কোনো চাপ দেবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। দুই দেশের এই আলোচনা মূলত পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া সংকট কমিয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এইবারের সফর ট্রাম্পের দ্বিতীয় চিন সফর। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি চিনে গিয়েছিলেন। চলতি সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ছাড়াও একাধিক বড় শিল্পপতিও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুই নেতার জন্য একটি রাষ্ট্রীয় ভোজেরও আয়োজনও করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অব হেভেন’- ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও রয়েছে। (Trump Xi Jinping Meeting)












