জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫৮৯। আহত হয়েছেন অন্তত ২,৯৮০ জন। শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই তথ্য জানিয়ে বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা প্রদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা মোতায়েন হয়েছে। একইসঙ্গে প্রশাসনের আশঙ্কা, এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বা নিখোঁজ। নিখোঁজদের খোঁজে সরকার যে অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে, সেখানে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সন্ধান চেয়ে আবেদন জমা পড়েছে। (Venezuela Twin Earthquake)
বুধবার সন্ধ্যায় সরকারি ছুটির দিনে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। আধুনিক লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্প বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে ১৯৬৭ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলায় ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। (Venezuela Twin Earthquake)
ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উপকূলবর্তী লা গুয়াইরা শহর। অন্তত ১০০টি বহুতল ও আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভারী উদ্ধারকারী যন্ত্রের অভাবে স্থানীয় বাসিন্দারাই খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। সাততলা একটি ভেঙে পড়া আবাসনের নীচে আটকে থাকা ১৯ বছরের ছেলেকে উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে ইয়ামিলেথ জিমেনেজ বলেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে কারাকাস ও ভ্যালেন্সিয়া থেকে মোটরসাইকেলে করে সাধারণ মানুষ খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় পৌঁছতে শুরু করেছেন। (Venezuela Twin Earthquake)
বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছতে শুরু করেছে। প্রথমে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরায় পৌঁছয়। এরপর মেক্সিকো ২৫০ জন, এল সালভাদর ১৮৮ জন, স্পেন প্রায় ১০০ জন এবং কলম্বিয়া ৬৩ সদস্যের উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সুইজারল্যান্ড ও জার্মানিও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, অনুসন্ধানী কুকুর এবং বিশেষ সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তার জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার ঘোষণা করেছে। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কারাকাস বিমানবন্দরের কাজেও সহায়তা করবে পেন্টাগন। বিদেশি সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। (Venezuela Twin Earthquake)
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভেঙে পড়া পরিকাঠামোর মধ্যে এই বিপর্যয় ভেনেজুয়াকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার অনুমান, প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ইতিমধ্যেই আশ্রয়শিবিরে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। এদিকে কারাবোবো প্রদেশের উপকূলীয় শহর মোরনে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের পরিষেবা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপ থেকে নিজেদের সামান্য সম্বল উদ্ধার করার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতির গুরুত্বে কারাকাস স্টক এক্সচেঞ্জকেও আপাতত ত্রাণ সংগ্রহ কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। তবে বিপর্যয়ের মধ্যেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল শিল্পের পরিকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদেশি জ্বালানি। (Venezuela Twin Earthquake)
আরও পড়ুন :- টানা বৃষ্টিতে অরুণাচলে বিপর্যয়, আচমকা বন্যা-ভূমিধসে নিখোঁজ ৩











1 thought on “ধ্বংসস্তূপে চাপা হাজারো প্রাণ, ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে বাড়ছে মৃত্যুমিছিল”