লাহোরের ঐতিহাসিক পরিচয় ফিরিয়ে আনতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর বদলে যাওয়া অসংখ্য রাস্তা, মহল্লা ও চকের নাম আবার হিন্দু, শিখ, জৈন ও ব্রিটিশ যুগের নামে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। পাঞ্জাব সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং লাহোরের বহুসংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক পরিচয় সংরক্ষণের অংশ। (Lahore Restores Ram Gali)
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলির মধ্যে ইসলামপুরা আবার হয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণ নগর (ক্রিশান নগর)। সুন্নত নগর ফিরে আসছে সন্ত নগর-এ। মুস্তাফাবাদ ফিরছে ধর্মপুরা-য়। বাবরি মসজিদ চক আবার জৈন মন্দির চক বা জৈন মন্দির রোড নামে ফিরছে। রেহমান গলি হয়ে যাচ্ছে রাম গলি। এছাড়া লক্ষ্মী চক, কুমারপুরা, মোহন লাল বাজার, সুন্দর দাস রোড, ভগবান পুরা, শান্তি নগরসহ আরও অনেক জায়গার নাম পুরনো রূপে ফেরানো হচ্ছে। (Lahore Restores Ram Gali)
পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই প্রকল্পটি গত কয়েক বছর ধরে চলছে। ২০২৫ সালে গঠিত লাহোর অথরিটি ফর হেরিটেজ রিভাইভালের অধীনে এই কাজ এগোচ্ছে। গত দু’মাসের মধ্যে প্রায় নয়টি জায়গায় নতুন সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে। দেশভাগের পর অনেক নাম ইসলামিক বা পাকিস্তানি ব্যক্তিদের নামে বদলে ফেলা হয়েছিল। স্থানীয়রা অবশ্য এখনও অনেক পুরনো নামই অনানুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করে আসছিলেন।
এই উদ্যোগে লাহোরের দেওয়ালে আবার ফুটে উঠছে সেইসব নাম যা একসময় শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এতে শহরের পর্যটন বৃদ্ধি পাবে এবং পুরনো মন্দির-গুরুদ্বারাগুলোর সংরক্ষণও সহজ হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বেশিরভাগই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। অনেকে বলছেন, “পুরনো লাহোর ফিরে আসছে”। (Lahore Restores Ram Gali)
দেশভাগের প্রায় ৭৯ বছর পর এই নাম পরিবর্তন লাহোরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
“আর কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরব”, বার্তা শেখ হাসিনার











