---Advertisement---
lifezone nursing home

ভারতীয়র লেন্সে ধরা পড়বে ফিফা বিশ্বকাপের মুহূর্ত, ইতিহাস গড়লেন গীতিকা তালুকদার

May 25, 2026 9:04 PM
Gitika Talukdar
---Advertisement---

ভারত ফুটবল বিশ্বকাপে না খেললেও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি তৈরি করেছেন এক ভারতীয় নারী (Gitika Talukdar)। ক্যামেরা হাতে অসম থেকে শুরু হওয়া গীতিকা তালুকদারের পথচলা আজ পৌঁছেছে ফিফা বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের সাইডলাইনে।

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে এখনও বিশ্বকাপে খেলার অধ্যায় লেখা হয়নি। কিন্তু সেই বিশ্বমঞ্চেই ভারতের নাম উজ্জ্বল করছেন এক ভারতীয় নারী— গীতিকা তালুকদার। ২০২৬ পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপে তিনি (Gitika Talukdar) হয়েছেন একমাত্র ভারতীয় মহিলা ফটোজার্নালিস্ট যিনি অফিসিয়াল অ্যাক্রেডিটেশন পেয়েছেন। এর সঙ্গে গীতিকার ঝুলিতে যোগ হলো টানা তৃতীয় ফিফা বিশ্বকাপ কভার করার নজির।

তবে এই সাফল্যের শুরু কোনও আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নয়। শুরু হয়েছিল এক সাধারণ স্বপ্ন, একটি ক্যামেরা আর খেলাধুলার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে।

কে এই গীতিকা তালুকদার (Gitika Talukdar) ?

অরুণাচল প্রদেশে জন্ম হলেও গীতিকা তালুকদারের বড় হয়ে ওঠা ভারতের বিভিন্ন শহরে। তাঁর বাবার চাকরির সূত্রে ছোটবেলা থেকেই নানা জায়গায় থাকতে হয়েছে। স্কুলজীবন কেটেছে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়গুলিতে।

পরে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি দেন উচ্চশিক্ষার জন্য। সিওল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে গ্লোবাল স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রকের স্কলারশিপও পান। পড়াশোনার সময় তিনি ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য নিয়ে গবেষণাও করেন।

পেশাজীবনের শুরু হয়েছিল একটি ফটো নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে পুরোপুরি গড়ে তোলেন স্পোর্টস জার্নালিজম ও স্পোর্টস ফটোগ্রাফির জগতে।

আমেরিকা ছেড়ে মেক্সিকোতে, বিশ্বকাপের আগে বড় সিদ্ধান্ত ইরানের

বিশ্বমঞ্চে পৌঁছনোর যাত্রা

স্পোর্টস ফটোগ্রাফিতে শুধু গোলের মুহূর্ত বন্দি করা নয়। একজন ক্রীড়াবিদের চাপ, দর্শকের উল্লাস, পরাজয়ের হতাশা কিংবা কয়েক সেকেন্ডের আবেগ — সবটাই ক্যামেরায় ধরে রাখা এই পেশার বড় চ্যালেঞ্জ। সেই জায়গাটাকেই নিজের শক্তি বানিয়েছেন গীতিকা। প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতায় (Gitika Talukdar) তিনি তৈরি করেছেন নিজের আলাদা পরিচয়। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে তাঁর ছবির ভাষা হয়ে উঠেছে আলাদা।

কীভাবে খুলল ফিফার দরজা?

ফিফা বিশ্বকাপের মতো আসরে অ্যাক্রেডিটেশন পাওয়া সহজ নয়। বিশ্বের হাজার হাজার সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফার সীমিত সংখ্যক সুযোগের জন্য আবেদন করেন। এই কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেই (Gitika Talukdar) গীতিকা তালুকদার প্রথম সুযোগ পান ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং এবার ২০২৬ সালে আবারও ফিফা তাঁকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া টিমের অংশ হিসেবে বেছে নিয়েছে। তিনটি পরপর পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ কভার করার এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

অপেক্ষার অবসান, ভারতে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সম্প্রচার নিয়ে বড় আপডেট

একজন স্পোর্টস ফটোজার্নালিস্ট হিসেবে কী কী কভার করেছেন?

ফিফা বিশ্বকাপ ছাড়াও গীতিকার ক্যামেরা পৌঁছেছে বিশ্বের বহু বড় ক্রীড়া আসরে। (Gitika Talukdar) তিনি কভার করেছেন ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ, টোকিও অলিম্পিক, প্যারিস অলিম্পিক, আইপিএল, কমনওয়েলথ গেমস এবং আইসিসির একাধিক আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, টোকিও অলিম্পিকে অসমের বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করাকে তিনি নিজের অন্যতম গর্বের অভিজ্ঞতা বলে জানিয়েছেন।

পুরুষ-প্রধান এক জগতে নিজের জায়গা তৈরি

স্পোর্টস ফটোগ্রাফি এখনও বিশ্বজুড়ে অনেকটাই পুরুষ-প্রধান ক্ষেত্র। দীর্ঘ ভ্রমণ, ব্যয়বহুল সরঞ্জাম, শারীরিক পরিশ্রম এবং চাপ সব মিলিয়ে এই পেশায় নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। সেই বাস্তবতার মধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের এক তরুণী (Gitika Talukdar) আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার প্রথম সারিতে জায়গা তৈরি করেছেন। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি সরাসরি তাঁকে প্যারিস অলিম্পিক কভার করার অ্যাক্রেডিটেশন দেয়, নারী ক্রীড়া সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারদের উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে। সেই স্বীকৃতি পাওয়া ভারতের প্রথম এবং একমাত্র মহিলা ফটোগ্রাফারও ছিলেন তিনি।

শুধু ম্যাচ নয়, মানুষের গল্পও

গীতিকার ছবিতে শুধু অ্যাকশন থাকে না, থাকে আবেগও। খেলোয়াড়ের চোখের জল, দর্শকের প্রতিক্রিয়া, জয়ের পরের উচ্ছ্বাস কিংবা পরাজয়ের নীরবতা— সবই তাঁর ফ্রেমে জায়গা পায়।

(Gitika Talukdar) তাঁর এই যাত্রা দেখিয়ে দেয়, বড় মঞ্চে পৌঁছতে সবসময় বড় শহর বা বড় পরিচয় লাগে না। কখনও কখনও একটি ক্যামেরা, নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস আর দীর্ঘ সময়ের নিষ্ঠাই যথেষ্ট। অসম থেকে শুরু হওয়া সেই পথ আজ পৌঁছে গিয়েছে ফিফা বিশ্বকাপের সাইডলাইনে। আর গীতিকা তালুকদারের এই গল্প আগামী প্রজন্মের বহু তরুণ-তরুণীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে।

এবার কি তবে মেসির পালা? ভাঙা হতে পারে ৭০ ফুটের মেসির মূর্তি


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Subscribe on Youtube

Join Now

Leave a Comment