ষাটের দশকের আফগানিস্তানের সঙ্গে এখনকার দেশটি কখনওই মেলানো যায় না। বিশেষ করে মেয়েদের চিত্র। মাত্র কয়েক দশক আগেও তাঁরা ছিলেন যথেষ্ট স্বাধীন। তখন তাঁদের পড়াশোনা করার অধিকার ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাধ আনাগোনা ছিল। আর এখন বদলে গিয়েছে সবকিছু। আফগানিস্তান তালিবানদের দখলে যাওয়ার পর থেকেই মেয়েদের চাকরি, উচ্চশিক্ষায় কোপ পড়েছে। এমনকি মুখ দেখিয়ে মেয়েদের রাস্তায় বের হওয়াও কার্যত বন্ধ। এখানেই শেষ নয়, কাবুল সহ আফগান শহরগুলির রাজপথে বিজ্ঞাপন হোর্ডিংয়ে মেয়েদের ছবিও নষ্ট করে দেওয়া হয়। সরকারের আসার পরই মহিলাদের জন্য নতুন করে ফতোয়া জারি করেন তালিবানরা(Taliban)। এক কথায় ‘তালিবানি শাসন’ মানে ভয়ঙ্কর। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই ‘তালিবানি শাসন’ শব্দটা ব্যবহার করি। তবে এই তালিবানেরই এক্কেবারে উল্টো দিকের ছবি দেখালো ভারতীয় ইনফ্লুয়েন্সার অঙ্কিতা কুমার।
তালিবানরা কেমন? এই প্রশ্ন অনেকের মনেই। আফাগানিস্তানে থেকে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দিলেন ইনফ্লুয়েন্সার অঙ্কিতা কুমার। মাত্র ১৩ দিনের ভিসায় আফগানিস্তান ভ্রমণ করলেন অঙ্কিতা। জানালেন, তালিবান অধ্যুষিত আফগানিস্তানে তাঁর ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, এমনও পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, পনেরো জন তালিবানের মধ্যে একাই থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু কোনও রকম নির্যাতনের মুখে পড়তে তো হয়নি তাঁকে। বরং তালিবানরা তাঁকে চা বানিয়ে খাইয়েছে। ফলে তালিবান মানেই যে মহিলাদের উপরে কতটা নির্দয়, তার প্রমাণ পাননি তিনি (Taliban)।
তিনি আরও বলেন, “একটা গাছের নিচে বসেছিল প্রায় ১৫ জন তালিবান। সেখানে আমিই ছিলাম একমাত্র নারী। চা চেয়েছিলাম। আমার জন্য চা বানিয়ে দিল তালিবানরা। আমরা রীতিমতো খোলামেলা পরিবেশে বসে বিশ্ব রাজনীতি, যুদ্ধ এবং ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা করলাম। পুরো বিষয়টাই ছিল একটা অবাস্তব অভিজ্ঞতার মতো।”
অঙ্কিতা অবশ্য পরে জানান, “আমি বিদেশিনী বলেই হয়ত ওরা কিছু করেনি। নইলে নিজেদের মেয়েদের প্রতি ওরা সাংঘাতিক নির্দয়।” সেই প্রসঙ্গ তুলেই তিনি আরও বলেন, “রেস্তরাঁয় মহিলাদের নিয়ে গেলে আলাদা পর্দা ঢাকা অংশেই খেতে বসতে হয় পুরুষদের। কেবল পুরুষদের জন্য বরাদ্দ অংশে মহিলাদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আফগানিস্তানের বিখ্যাত ‘বন্দ-এ-আমির’-এ সকাল ৮টার পর নারীদের প্রবেশের অধিকার নেই। ছ’টার পর মেয়েদের পড়াশোনা করারই অনুমতি নেই।”
অঙ্কিতা বলেন, “নারীদের পুরুষদের সঙ্গে গাড়ির সামনের আসনে বসারও অনুমতি নেই। এমনকী কোনও পুরুষ গাড়ি চালালে সেই গাড়ির ভিতরে বসারও অনুমতি দেওয়া হয় না। গাড়িটি খালি থাকলেও পেছনের অংশে (ট্রাঙ্কে) বসতে হয়, তাও আবার ট্রাঙ্কের ডালা খোলা অবস্থায়।”
তবে দেশবাসীর সঙ্গে তালিবানরা যেই নিয়মই মেনে চলুক না কেন, বিদেশিনীদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার যে পুরো উল্টো তা অঙ্কিতার ভিডিয়ো থেকেই পরিষ্কার।












