বর্ষার দাপটে দেশের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টি অব্যাহত। রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে মুম্বই, কেরল, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, মহারাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন রাজ্যে টানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দিল্লি-এনসিআর এলাকায়। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টি শুরু হয়। গত কয়েক দিনের অস্বস্তিকর গরম ও আর্দ্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি মিললেও, জল জমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।
ইতিমধ্যে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর IMD-র থেকে দিল্লিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় জুড়েই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে নয়াদিল্লি রেলস্টেশন, মুনিরকা-সহ শহরের একাধিক এলাকায় জল জমে যায়।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ জুলাই পর্যন্ত দিল্লি, হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি চলবে। এছাড়া উত্তর-পূর্ব উত্তরপ্রদেশে ১৩ জুলাই পর্যন্ত নতুন করে বৃষ্টির দফা চলতে পারে। পূর্ব রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকাতেও ৯ জুলাই উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। (Heavy Rainfall Alert)
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রবল বর্ষণে দিল্লি-এনসিআরের নয়ডা ও গাজিয়াবাদেও ব্যাপক জল জমেছে। বহু রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অফিসগামী মানুষকে। তবে আগে থেকেই নেওয়া পদক্ষেপের জেরে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বড় বড় নিকাশি নালা পরিষ্কার করা এবং পলি সরানোর কাজ আগেই হওয়ায় নরেলা, দ্বারকা এবং NHPC চকের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্ডারপাসে বড় ধরনের জল জমেনি, ফলে যান চলাচল তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক ছিল। যদিও গীতা কলোনি-সহ কয়েকটি এলাকায় প্রবল বর্ষণের পর উল্লেখযোগ্য জল জমার খবর মিলেছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মুম্বইয়ে মেঘলা আকাশ। তবে বৃষ্টির পরিমাণ আগের থেকে কমেছে। গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে জল জমা, গাছ পড়ে যাওয়া, তীব্র যানজট এবং রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার পর এদিন সকালে শহরবাসী কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।তবে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনও বৃষ্টি পুরোপুরি কমছে না। দিনের বেলায় মাঝেমধ্যেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করেছে বৃহন্মুম্বই পুরসভা (BMC)।
দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও উত্তরে সতর্কতা, বাড়বে দুর্যোগ
এদিকে কেরালাতেও ভারী বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। পশ্চিম উপকূল বরাবর তৈরি হওয়া অফ-শোর ট্রফের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি চলবে বলে জানিয়েছে IMD. বৃহস্পতিবার মালাপ্পুরম, কোঝিকোড় এবং ওয়েনাড় জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি এরনাকুলাম, ইদুক্কি, ত্রিশূর, পালাক্কাড়, কন্নুর এবং কাসারগোড়ে ইয়েলো অ্যালার্ট জারি রয়েছে।
District wise Nowcast Warning valid for next two-three hours:
— India Meteorological Department (@Indiametdept) July 9, 2026
Red Warnings: Lightning/Thunderstorms with gusty winds (around 60 kmph) and heavy rain (>15 mm/h) very likely over following districts in:
Haryana: Faridabad, Karnal, Palwal, Panchkula, Panipat, Sonipat, Yamunanagar… pic.twitter.com/k8do5cHouc
আবহাওয়া দফতরের তরফে কাসারগোড়, কন্নুর, ওয়েনাড়, কোঝিকোড় এবং মালাপ্পুরম জেলাগুলির জন্যও হলুদ সর্তকতার কথা জানানো হয়েছে। দক্ষিণ গুজরাত থেকে মধ্য কেরল পর্যন্ত বিস্তৃত অফ-শোর ট্রফের প্রভাবে আগামী চার দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে IMD। (Heavy Rainfall Alert)
সব মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বর্ষা এখন পুরোপুরি সক্রিয়। কোথাও প্রবল বৃষ্টি জল জমায় জনজীবন ব্যাহত, আবার কোথাও দীর্ঘ দিনের ভারী বর্ষণের পর মিলছে সাময়িক স্বস্তি। তবে এই মুহূর্তে আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ প্রয়োজন ছাড়া ভারী বৃষ্টির সময় বাইরে না বেরোনোই ভালো।










