রাজ্য খেলার দুনিয়া দেশ মুশকিল আসান বিদেশ বিনোদন ব্যবসা ও বাণিজ্য লাইফস্টাইল ও স্বাস্থ্য টেক

---Advertisement---

অঝোরে কাঁদলেন মেসি, বিদায়বেলায় বললেন—’স্পেনই ছিল সেরা’

Lionel Messi Crying
---Advertisement---

[ছবি:এক্স]

স্টেডিয়াম নীরব। কোটি কোটি মানুষ টিভির পর্দার সামনে স্তব্ধ। (Lionel Messi Crying) যে মানুষটা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবলকে জাদু দেখিয়েছেন, সেই লিওনেল মেসির চোখে তখন শুধু জল। মেসির চোখের জল যেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর বুকের ভেতর জমে থাকা নীরব যন্ত্রণারই প্রতিচ্ছবি। ২০২২ সালে যে হাত বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরেছিল, ২০২৬-এ সেই হাতেই উঠল রানার্স-আপের রূপোর পদক। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের আলো ঝলমলে মঞ্চে পদক নেওয়ার পর যখন ধীরে ধীরে টানেলে ফিরছিলেন, তখন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। চোখ ভিজে উঠেছিল, আর (Lionel Messi Crying) সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে।

ফাইনালে স্পেনের কাছে অসহায় আর্জেন্টিনা

স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের ১০৬ মিনিটের গোলে ১-০ ব্যবধানে হার মানে আর্জেন্টিনা। সবচেয়ে অবাক করা তথ্য, পুরো ১২০ মিনিটে একবারও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি স্কালোনির ছেলেরা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে রানার্স-আপের পদক নিলেন মেসি। তারপর মঞ্চ থেকে নামতেই আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। (Lionel Messi Crying) চোখের জল লুকোনোর ব্যর্থ চেষ্টা, মাথা নিচু করে টানেলের দিকে হাঁটা—সেই দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে নিজেকে লুকোননি মেসি। তিনি বলেন, “খুব খারাপ লাগছে। আমরা হৃদয় উজাড় করে খেলেছি। কিন্তু সত্যি বলতে, স্পেনই ভালো দল ছিল। আমরা হার মেনে নিচ্ছি। তবে এতদিন যা অর্জন করেছি, তা কখনও মুছে যাবে না। আমার সতীর্থ, দেশের মানুষ ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই।”

শেষ বিশ্বকাপে মেসির অনন্য রেকর্ড

এটাই হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে রেকর্ড ছুঁয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেললেন তিনি। করেন ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট। বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়াল ২১, যা কিলিয়ান এমবাপের ২২ গোলের পরেই। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের সব আলো ম্লান হয়ে যায় ফাইনালের হার আর চোখের জলে। (Lionel Messi Crying)

স্কালোনির চোখে মেসিই সর্বকালের সেরা

আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ও বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার। ও যতদিন চাইবে, ততদিন খেলবে। আমরা সবাই ওকে নিয়ে গর্বিত।”

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনায় সফল স্পেন

অন্যদিকে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানিয়ে দেন, ফাইনালের সবচেয়ে বড় পরিকল্পনাই ছিল মেসিকে আটকে রাখা। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রথম লক্ষ্যই ছিল মেসিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া।” প্রথমার্ধে মাত্র ১৫ বার এবং পুরো ম্যাচে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কার্যত তাঁকে নিষ্ক্রিয় রেখেই বিশ্বজয়ের ইতিহাস লেখে স্পেন।

AFA-র আবেগঘন বার্তা

(Lionel Messi Crying) ম্যাচের পর মেসির কান্নার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) এক আবেগঘন বার্তায় লেখে, “তোমার চোখের জল আমাদেরও চোখের জল, ক্যাপ্টেন। তুমি আমাদের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলো উপহার দিয়েছ। শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ। আমরা তোমাকে চিরকাল ভালোবাসব, লিও।”

চোখের জলে কি শেষ হলো মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়?

এই হার শুধু একটি ফাইনালে হার নয়, হয়তো একটি স্বর্ণযুগের শেষ অধ্যায়ের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের নায়ক মেসির বিশ্বকাপ যাত্রা হয়তো শেষ হলো চোখের জলে (Lionel Messi Crying)। কিন্তু স্বপ্ন অধরা থাকলেও, কোটি ভক্তের কাছে তিনি ট্রফির সংখ্যায় নয়, আবেগ, অনুপ্রেরণা আর অসম্ভবকে সম্ভব করার নাম— লিওনেল মেসি।

ট্রফি সেলিব্রেশনে ফের ফটোবম্ব? পোডিয়াম থেকে নামতেই চাইলেন না ট্রাম্প


Ishani Halder

ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা ও ক্রিকেটের খবরের প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল। সেই আগ্রহ থেকেই সাংবাদিকতায় আসা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। মূলত খেলার খবর লিখতেই বেশি ভালো লাগে, পাশাপাশি রাজনীতি, ভাইরাল ও বিভিন্ন চলতি বিষয় নিয়েও খবর লিখতে বিশেষ আগ্রহী। খেলাধুলা দেখতে ও তার বিভিন্ন দিক নিয়ে জানতে ভালো লাগে। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তথ্য পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। লেখালিখির পাশাপাশি বই পড়তে খুব ভালো লাগে এবং নতুন বিষয় জানতে সবসময় আগ্রহী।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

2 thoughts on “অঝোরে কাঁদলেন মেসি, বিদায়বেলায় বললেন—’স্পেনই ছিল সেরা’”

Leave a Comment